বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডেনমার্ক সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিরল ও কঠোর সতর্কতা দিয়েছে, সেটা হলো, যদি গ্রিনল্যান্ডে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ বা আক্রমণ ঘটে, ডেনিশ বাহিনী আগে গুলি করবে, পরে প্রশ্ন করবে।

এই ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ব্যক্তিগত ও সরকারীভাবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, এমনকি প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন।

ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ১৯৫২ সালের শীতলযুদ্ধ-কালের সামরিক নির্দেশিকা এখনও প্রযোজ্য, যার অধীনে ডেনিশ বা গ্রিনল্যান্ডিক বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখন্ডে কোনো অনুপ্রবেশ হলে উচ্চ পর্যায়ের অনুমতি ছাড়াই তৎক্ষণাৎ শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে। এই নিয়মটি মূলত ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির তৎক্ষণাত দমন হুমকির পর তৈরি হয়েছিল, যাতে যোগাযোগ বিঘ্নিত হলেও সেনারা নিজেদের সিদ্ধান্তে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

গ্রিনল্যান্ড হলো ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ন্যাটো সদস্য। সমুদ্রে বরফ গলে যাওয়ায় এটি বিশাল খনিজ ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটির স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত কৌশলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে।

এদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড, দুই পক্ষই বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা গ্রিনল্যান্ড বিক্রির বিষয়েই চিন্তা করে না এবং স্বশাসিত জনগণও তাদের নাগরিকত্ব ও স্বাধীনতা হারাতে চায় না। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন যে…

যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ড দখল করার চেষ্টা করে, তা হবে নাটো যুগের শেষ

অর্থাৎ পশ্চিমা নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাঠামো থেমে যাবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নীলসেন এই আগ্রাসনমূলক উত্তরের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন…

এটা শুধু ভূখণ্ডের ব্যাপার নয়, এটা গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের ব্যাপার।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য ন্যাটো দেশও ডেনমার্কের ভূখণ্ড ও নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং বলেন, এ ধরনের জোরালো মনোভাব ন্যাটো ও আন্তর্জাতিক আইনকে চ্যালেঞ্জ করে। বিশ্ব রাজনীতিতে এটি একটি বিরল ঘটনা যে ন্যাটো অন্তর্গত দুই দেশ, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণরূপে একে অপরের নীতির বিরোধিতা করে এমন সামরিক ভিত্তির সতর্কতা দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করেছে, যা আগে কখনও উল্লেখ হয়নি। এ পরিস্থিতি শুধুই দ্বিপক্ষীয় বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই, এটি আর্কটিক নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা, মুদ্রা ও খনিজ উৎস সন্ধান, এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version