বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে পাঠানো প্রতিটি রেমিট্যান্স সর্বোচ্চ এক কার্যদিবসের মধ্যে প্রাপক বা গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।

এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ অযথা বিলম্ব না করে পরিবারের হাতে পৌঁছানো এবং দেশে বৈধ অর্থপ্রবাহের ওপর আস্থা বাড়ানো।

বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৫ সালে দেশের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু অনেক সময় ব্যাংকিং প্রক্রিয়া, মধ্যবর্তী সংস্থার সমন্বয়হীনতা বা অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ গ্রাহকের হাতে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নতুন নিয়মের মাধ্যমে এই বিলম্ব কমানো এবং গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা হবে। নির্দেশনার আওতায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার অপারেটর থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে, প্রবাসীরা দ্রুত অর্থ পাবেন, পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও জরুরি খরচ সহজে পূরণ হবে, হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলের ঝুঁকি কমবে এবং বৈধ চ্যানেলের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে। রেমিট্যান্স দ্রুত হাতে পৌঁছানো মানে প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি। এতে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে মানুষ আরও উৎসাহিত হবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে।

নতুন নির্দেশনার অধীনে প্রতিটি ব্যাংককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থ গ্রাহকের হিসাবে জমা দিতে হবে। কোনো প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক কারণে বিলম্ব হলে ব্যাংককে তা ব্যাখ্যা করতে হবে এবং যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, যদি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেমিট্যান্স গ্রাহকের হিসাবে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে হতে পারে, প্রশাসনিক নোটিশ, জরিমানা ও পর্যবেক্ষণ বা লাইসেন্স সংশোধনের পদক্ষেপ।

বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রেমিট্যান্স দ্রুত প্রাপ্তি দেশে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি কেবল পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে।

বর্তমান সময়ে সরকার ডিজিটাল রেমিট্যান্স এবং অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেমকে উৎসাহিত করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনার সঙ্গে সেই উদ্যোগগুলোও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য একটাই, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ যেন দ্রুত ও নিরাপদে পরিবারের হাতে পৌঁছায়, আর বাংলাদেশে বৈধ অর্থপ্রবাহকে আরও শক্তিশালী করা যায়। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, নিয়মের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দৈনন্দিন জীবন সহজ করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও দৃঢ় করবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version