মঙ্গলবার, ৩রা নভেম্বর, ২০২৬   |   ১৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, নরওয়েসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে পারে।

ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন রোববার (১ নভেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে নরওয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে সব সময় সহযোগিতা করে আসছে।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচন সংসদীয় গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। এ সময়ে গুম, খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ তৎকালীন বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে।

স্পিকার আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নতুন করে শুরু হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষায়ও বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নরওয়ে সব সময় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে মতবিনিময় করেন তাঁরা। এ ছাড়া চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম ও জুলাই সনদ নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নরওয়ের কোম্পানিগুলোকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান স্পিকার।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version