শনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষায় একজোট হয়েছে উত্তর ইউরোপের ১০টি শক্তিশালী দেশ। সুইডেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে ইউরোপে কোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বা মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে সীমান্ত অতিক্রম করে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে এই দেশগুলো একমত হয়েছে।

চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো— জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং বাল্টিক অঞ্চলের তিন দেশ এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া।

সুইডিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে একটি দেশ যখন বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে, তখন সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া কতটা জরুরি। এই ১০টি দেশ এখন থেকে যৌথভাবে যাতায়াত ব্যবস্থা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, জরুরি ট্রাভেল করিডোর এবং শরণার্থী নিবন্ধনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে একটি শক্তিশালী রোডম্যাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সুরক্ষাকে এই পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সাথে সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধের আশঙ্কায় ন্যাটো সদস্যভুক্ত এই দেশগুলো নিজেদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করছে। এর ফলে যুদ্ধের সময় সামরিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বাঁচানোও অনেক সহজ হবে। মূলত ইউরোপের মানচিত্রে নাগরিকদের নিরাপত্তায় এটি একটি নজিরবিহীন এবং যুগান্তকারী প্রতিরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version