বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে শ্রমবাজারের চাপ ও দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে অস্ট্রিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চালু করতে যাচ্ছে ‘ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কার পারমিট’ নামে একটি ওয়ার্কার পারমিট পদ্ধতি। এই নতুন ব্যবস্থা বিশেষভাবে উপকার করবে তাদের, যারা অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী দেশে বসবাস করলেও প্রতিদিন বা নিয়মিত অস্ট্রিয়ায় গিয়ে কাজ করতে চান।

কেন এই নতুন পারমিট?

অস্ট্রিয়ার বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। হেলথকেয়ার, নির্মাণ, টেকনিক্যাল পেশা, সার্ভিস সেক্টরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রমশক্তির অভাব প্রকট। অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে অনেক দক্ষ কর্মী আছেন, যারা দূরত্বের কারণে স্থান পরিবর্তন করতে চান না, কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিন কাজ করতে সক্ষম। এই বাস্তব চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই অস্ট্রিয়া আনছে ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কার পারমিট, যা ক্রস-বর্ডার কর্মসংস্থানে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ, এই তিনটি সুবিধাই নিশ্চিত করবে।

কারা এই পারমিট পাবে?

১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে এই পারমিটের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে আবেদন করতে হলে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম শর্ত হলো- আবেদনকারীকে অবশ্যই অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী কোনো দেশে (যেমন: জার্মানি, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি) দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার থাকতে হবে এবং নিজের দেশে শ্রমবাজারে অসীমিত প্রবেশাধিকার থাকতে হবে।

দ্বিতীয় শর্ত হলো-কর্মস্থল অবশ্যই অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী জেলাতে হতে হবে। প্রার্থীকে নিয়মিত সীমান্ত পার হতে হবে, অর্থাৎ প্রতিদিন বা সপ্তাহে কয়েকদিন যাতায়াত করতে হবে।

তৃতীয় শর্ত হলো- পারমিট অনুমোদনের আগে অস্ট্রিয়ার সরকারি চাকরি সহায়তা অফিস (এএমএস) শ্রমবাজার পরীক্ষা করবে। এর উদ্দেশ্য, অস্ট্রিয়ার কোনো কর্মপ্রার্থী ওই পদের জন্য উপলব্ধ কিনা তা নিশ্চিত করা এবং দেশীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখা। এটি না হলে নিয়োগকর্তারা কম খরচে বিদেশিদের নিয়োগ দিতে পারতেন, যা স্থানীয় শ্রমশক্তির জন্য হুমকি হতো।

পরিবারের জন্য সুবিধা

’ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কার পারমিট’ বাস করার অধিকার প্রদান করে না, তাই পরিবারের সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো রেসিডেন্স রাইট পাবেন না। অস্ট্রিয়ায় বসবাস করতে চাইলে আলাদা করে তাদের নিজেদের রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে।

এই পারমিট কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অস্ট্রিয়ার শ্রমবাজারে স্বস্তি আনার পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে নার্স, নির্মাণশ্রমিক, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি, কৃষি শ্রমিক, হসপিটালিটি ও রিটেইল, এসব খাতে দ্রুত জনবলের ঘাটতি মেটাতে পারমিটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেশী দেশের কর্মীদের নতুন সুযোগ

জার্মানি, ইতালি বা সুইজারল্যান্ডে বসবাস করেও অস্ট্রিয়ায় উচ্চ বেতনে কাজ করার সুবিধা মিলবে।
অনেকেই পরিবার বা জীবনযাত্রার সুবিধার কারণে নিজের দেশে থাকতে চান, এই পারমিট তাদের জন্য আদর্শ।

ইউরোপে কর্মসংস্থানের গতিশীলতা বাড়বে

এই উদ্যোগটি সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে অস্ট্রিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। আগে অনেক কর্মী অনানুষ্ঠানিকভাবে যাতায়াত করতেন, এখন তারা আইনগত, নিরাপদ ও স্থায়ী কাঠামোর মধ্যে কাজের সুযোগ পাবেন।

সীমাবদ্ধতা

এটি কাজের অনুমতি, বসবাসের অনুমতি নয়। শুধু ল্যান্ড বর্ডার শেয়ার করে এমন দেশগুলোর নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন। সব আবেদন গ্রহণ করা হবে না, শ্রমবাজার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কর্মস্থল অবশ্যই সীমান্তবর্তী জেলাতে হতে হবে।

সামগ্রিকভাবে কী পরিবর্তন আনবে?

এই নতুন সিস্টেম, শ্রমবাজারের চাপ কমাবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য আইনি প্রক্রিয়া সহজ করবে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করবে, ইউরোপে শ্রমগত চলাচলকে আরও নিখুঁত করবে এবং কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক চাকরির দরজা খুলে দেবে। ”ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কার পারমিট” অস্ট্রিয়ার শ্রমবাজারে আধুনিক, প্রয়োজনভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version