বুধবার, ২০ই মে, ২০২৬   |   ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের শেনজেন অঞ্চল আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ভবিষ্যতের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন তাদের পঞ্চম ‘স্টেট অফ দ্য শেনজেন’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে। ১৮ মে প্রকাশিত এই রিপোর্টে বিগত বছরের অর্জনগুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আগামী বছরের কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথ প্রচেষ্টার ফলে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে শেনজেন অঞ্চলে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের হার ২৬ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ইইউ-তে থাকার অধিকার নেই এমন ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হার ছিল ২৮ শতাংশ, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বহিঃসীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক ছিল ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’ (EES)-এর পূর্ণাঙ্গ পথচলা। এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর প্রথম ৬ মাসেই সদস্য দেশগুলো ৬৬ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের আসা-যাওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করেছে এবং ৩২,০০০ অবৈধ ব্যক্তিকে শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইইউ-এর সর্বপ্রথম ভিসা কৌশলও গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শেনজেন অঞ্চলকে সুরক্ষিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, যা দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী ২০২৬-২০২৭ চক্রের জন্য বেশ কিছু নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন প্রবেশ-প্রস্থান ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ইইউ ভিসা নীতি আরও নিরাপদ করা এবং ‘ETIAS’ চালুর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করা। এছাড়া ২০২৬ সালে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করতে একটি নতুন ডিজিটাল আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেবে কমিশন, যা জাতীয় কর্তৃপক্ষের কাজের চাপ কমাবে। ৪৫ কোটিরও বেশি নাগরিকের অবাধ চলাচল, বাণিজ্য ও পর্যটন সচল রাখতে আগামী জুন মাসে বিচার ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক শেনজেন কাউন্সিলে এই প্রতিবেদন এবং নতুন অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করা হবে।

তথ্যসূত্র: ইমিগ্রেশন এন্ড হোম এফেয়ার্স ইইউ 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version