সীমান্তে যাত্রী চলাচলের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ‘এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’ (ইইএস) বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে পর্তুগালসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য সানডে টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ব্রাসেলসের নেওয়া এই ব্যবস্থাটি গত ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাধ্যতামূলক না থাকলেও পর্তুগালসহ একাধিক দেশ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তা কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তে দীর্ঘ জট এড়াতে এবং ‘চলাচলের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে’ ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল এবং সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলো ইইএস বাস্তবায়নে বিলম্ব করছে।
এর আগে শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এবং পরবর্তী এপ্রিলে পুরোদমে ইইএস কার্যকরের পরিকল্পনা ছিল। তবে সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে ব্যস্ত পর্যটন মৌসুমে ভ্রমণ বিশৃঙ্খলা এড়াতে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ছাড়াই ১৫০ দিনের একটি বিশেষ ছাড় (গ্রেস পিরিয়ড) দেওয়া হয়েছিল। পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এই ছাড়ের মেয়াদ গত ৬ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। তা সত্ত্বেও ৯টি শেনজেন দেশ ইউরোপীয় কমিশনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা শতভাগ ত্রুটিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই নতুন পদ্ধতি চালু করবে না।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই অনানুষ্ঠানিকভাবে এসব দেশকে ইইএস স্থগিত রাখার অনুমতি দিয়েছে বলে সানডে টাইমস জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান নির্বাহী গোয়েন্দোলিন কাজেনাভ জানিয়েছেন, সীমান্তে গতিশীলতা বজায় রাখাই এই অনুমতির মূল লক্ষ্য।
বিমান সংস্থা, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষের তীব্র চাপের মুখেই মূলত ব্রাসেলস এই ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে। রায়ানএয়ারের (Ryanair) মতো শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্সগুলো শুরু থেকেই নতুন এই ব্যবস্থার ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে ভ্রমণ সংস্থাগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দাবি করে আসছে যে ইইএস ব্যবস্থাটি সঠিকভাবে কাজ করছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের চাপের কারণেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা পিছিয়ে এসেছে বলে সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টেকসই পর্যটন বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার অ্যাপোস্তোলোস জিচিকোস্তাস চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে যুক্তরাজ্যের পরিবহন সচিব হেইডি আলেকজান্ডারকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছিলেন যে, ৬ সেপ্টেম্বরের পরও এই ইইএস জোরপূর্বক কার্যকর করা হবে না।
বর্তমানে বিভিন্ন দেশে এই ইইএস ব্যবস্থাটি আলাদাভাবে কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ, পর্তুগাল ও সুইডেন একটি বিশেষ অ্যাপ চালু করেছে যার মাধ্যমে যাত্রীরা সরাসরি তাঁদের বায়োমেট্রিক তথ্য আপলোড করতে পারেন। এই ডেটাগুলো এস্তোনিয়াভিত্তিক ৪০০ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংস্থা ‘ইউ-লিসা’ পরিচালিত একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত, যা বড় বড় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা তদারকি করে থাকে।
