বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৯টি সদস্য রাষ্ট্র জোটের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র নির্মাণের অর্থায়নের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রতি আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর ইইউ নেতারা জোটের বাইরে ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশে’ প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠাতে এই কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনায় একমত হন।

এর আগে ১৫ ডিসেম্বর অস্ট্রিয়া, জার্মানি, ইতালি, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসসহ ১৯টি দেশের মন্ত্রীরা কমিশনকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তারা বিদ্যমান ও ভবিষ্যতের ইইউ তহবিল ব্যবহার করে এই রিটার্ন হাবগুলো নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য একটি স্পষ্ট আর্থিক ও আইনি কাঠামোর দাবি জানিয়েছেন।

চিঠিতে দেশগুলোর মূল দাবি অর্থায়ন নিশ্চিত করা। ইইউ তহবিল থেকে কীভাবে এই কেন্দ্রগুলোর খরচ মেটানো হবে, তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চাওয়া হয়েছে। রিটার্ন হাব বাস্তবায়নে ব্রাসেলস যেন দ্রুত কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করে সেই দাবিও আছে। ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের মতে, ১৯টি দেশ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ইইউর সরাসরি আর্থিক সহায়তা চায়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এমনই ঐকমত্য দেখা গেছে।

ইউরোপীয় কমিশন চিঠিটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। কমিশনের মতে, অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ফল দিচ্ছে এবং চলতি বছর অবৈধ প্রবেশ ২৬ শতাংশ কমেছে। তবে রিটার্ন হাবগুলোতে কেবল তাদেরই রাখা হবে, যাদের আশ্রয়ের সব আইনি ধাপ শেষ হয়েছে এবং ইইউতে থাকার আর কোনো অধিকার নেই। এছাড়া শিশু এবং পরিবারগুলোকে এই ব্যবস্থার বাইরে রাখা হবে।

মানবাধিকার সংস্থা এবং অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে। ‘প্ল্যাটফর্ম ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন অন আনডকুমেন্টেড মাইগ্রেন্টস’ এমন প্রস্তাবকে ‘পুলিশি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা বলছে, এমন হলে মানবাধিকার খর্ব হবে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং ইইউর মৌলিক অধিকার সংস্থা সতর্ক করেছে, এর ফলে ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি (কাউকে নিপীড়নমূলক দেশে ফেরত না পাঠানো) লঙ্ঘিত হতে পারে, শরণার্থীরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন…

শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা ছাড়া কাউকে ইইউর বাইরে পাঠানো হলে তারা অনিরাপদ পরিস্থিতিতে পড়ে যেতে পারেন।

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, প্রস্তাবটি বর্তমানে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তারা আশা করছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করেই এই রিটার্ন হাবগুলো পরিচালিত হবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version