সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে সমুদ্রপথে অভিবাসী ও শরণার্থীদের আগমন চলতি বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে ইউরোপে পৌঁছানোর পথে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) নতুন পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত সমুদ্রপথে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী ইউরোপে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৪০ জন। অর্থাৎ এ বছর আগমন কমেছে ৩৯ শতাংশ।

তবে এ সময় ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ২ হাজার ২৯২ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ জন। ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক রুটকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, এই পরিসংখ্যান একই সঙ্গে দুটি চিত্র তুলে ধরছে। গত বছরের তুলনায় এ সময় ইউরোপে সমুদ্রপথে কম মানুষ পৌঁছালেও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যাত্রার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছেন বা নিখোঁজ হচ্ছেন।

তিনি বলেন, সমুদ্রে প্রায় প্রতিটি মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এসব ঘটনার প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী হয়। অনেক সময় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে তাদের পরিবার বছরের পর বছর বিভিন্ন দেশে স্বজনের খোঁজে অপেক্ষা করে।

সবচেয়ে বেশি কমেছে ইতালিমুখী মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে অভিবাসী আগমন। গত বছরের একই সময়ের ৪৮ হাজার ২৩১ জনের তুলনায় এ বছর সেখানে পৌঁছেছেন ২১ হাজার ৩৯৩ জন—কমেছে ৫৫ শতাংশ। তবে এই পথেই মৃত্যুর সংখ্যা ৮৪৪ থেকে বেড়ে ৯৯৬ হয়েছে।

গ্রিসে এ বছর ২০ হাজার ৪২৮ জন অভিবাসী পৌঁছেছেন, যা গত বছরের ২৫ হাজার ৪২৭ জনের তুলনায় কম। তবে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে মৃত্যু বেড়েছে ২৮৪ থেকে ৪১৭ জনে।

আটলান্টিক ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় পথ মিলিয়ে স্পেনে এ বছর পৌঁছেছেন ১৬ হাজার ৭৯৪ জন। গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৮৫৫। তবে সেখানে প্রাণহানির সংখ্যা ৮৭৯ জনে উচ্চই রয়েছে।

সমুদ্রপথে অভিবাসীদের আটক করে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। আইওএমের পর্যবেক্ষণ করা লিবিয়ান কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১৭ হাজার ৬৭ জন অভিবাসীকে সমুদ্রে আটক করে লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অ্যামি পোপ বলেন, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একজন মানুষ, একটি পরিবার ও একটি সম্প্রদায় রয়েছে। অভিবাসীর আগমন কমার পরও মৃত্যু বাড়ার অর্থ হলো তারা ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করছেন।

তিনি অভিবাসীদের জীবন রক্ষা, তাদের সুরক্ষা, মানবপাচার ও শোষণ বন্ধ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

আইওএম জানিয়েছে, নিখোঁজ অভিবাসীদের ভাগ্য ও অবস্থান শনাক্ত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করাও জরুরি।

আইওএমের ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং ম্যাট্রিক্স (ডিটিএম) ও মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্টের তথ্যের ভিত্তিতে এসব পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এতে ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা ঘটনা ও ইউরোপে অভিবাসী আগমনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে অনেক নৌকাডুবি ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version