বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২৬   |   ২০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার জেরে বিশ্বজুড়ে খনিজ তেল ও গ্যাসের দাম যখন আকাশচুম্বী, ঠিক তখনই ইউরোপের অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে রক্ষা করছে সৌরশক্তি। ‘সোলারপাওয়ার ইউরোপ’-এর সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কেবল গত মার্চ মাসেই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো প্রায় ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ইউরো সাশ্রয় করেছে। প্রতিদিন গড়ে ১০০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের সাশ্রয় মহাদেশটিকে এক চরম আর্থিক বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে।

৩১শে মার্চ পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ইউরোতে ঠেকেছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে সৌর ও বায়ুশক্তি ব্যবহারের ফলে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা নাটকীয়ভাবে কমেছে। ২০২৬ সালেও যদি গ্যাসের দাম এই উচ্চপর্যায়ে থাকে, তবে ইউরোপের দেশগুলো মোট ৬৭.৫ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করতে সক্ষম হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। গত বছর হিট পাম্প ব্যবহারের মাধ্যমেও মহাদেশটি ২০ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করেছে।

অবস্থান দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির হার (%) প্রধান উৎস

১ অস্ট্রিয়া ৯০% – জলবিদ্যুৎ

২ সুইডেন ৮৮% – বাতাস ও পানি

৩ ডেনমার্ক ৮০% – বায়ুশক্তি

৪ স্পেন ৬৯.৭% – বায়ু ও সৌরশক্তি

৫ জর্জিয়া ৬৮.৪% – জল ও বায়ুশক্তি

৬ পর্তুগাল ৬৫.৮% – বায়ু

স্পেন গত কয়েক বছরে তাদের সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করেছে, যার ফলে খনিজ জ্বালানির ওপর তাদের নির্ভরশীলতা ৭৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, গত ২৬শে মার্চ যুক্তরাজ্য বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে, যা দেশটির অর্ধেক বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, গ্রিড ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় করা এবং দ্রুত বিদ্যুতায়ন প্রক্রিয়াই পারে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে স্থায়ী সমাধান দিতে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version