রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি চারজন কর্মীর মধ্যে তিনজনই কর্মক্ষেত্রে সন্দেহজনক ইমেইল, মেসেজ বা লিংকের মুখোমুখি হয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের উদ্যোগে পরিচালিত ‘ইউরোব্যারোমিটার’-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে এই উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।

চলমান ‘ইউরোপিয়ান সাইবার সিকিউরিটি মান্থ’ (ইসিএসএম) উপলক্ষে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানের বরাতে গ্রিসের ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (এইচডিপিএ) সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, সাইবার হুমকি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
জরিপ অনুযায়ী, সাইবার হুমকি এখন আধুনিক কর্মজীবনের নিয়মিত অংশে পরিণত হয়েছে। তবে ডিজিটাল ঝুঁকি সম্পর্কে কর্মীদের যে তাত্ত্বিক ধারণা রয়েছে, বাস্তব অভ্যাসে তার বড় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

শীর্ষে ফিশিং ও এআই স্ক্যাম:
ইউরোপে সবচেয়ে সাধারণ ও বড় সাইবার হুমকি হয়ে রয়েছে ‘ফিশিং’। প্রায় ৩৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, তারা তথ্য চুরি বা অননুমোদিত প্রবেশের জন্য তৈরি প্রতারণামূলক বার্তা পেয়েছেন অথবা ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন।

এর বাইরে ১৮ শতাংশ কর্মী ব্যক্তিগত তথ্য চুরির চেষ্টা, ১৭ শতাংশ ম্যালওয়্যার আক্রমণ এবং ১৬ শতাংশ পাসওয়ার্ড চুরির চেষ্টার মুখোমুখি হয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অন্তত ১৫ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন তারা ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এআই দিয়ে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য মেসেজ, ছবি, অডিও ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় এই ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

জানা আর মানার ব্যবধান:
কর্মীরা সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে জানলেও তা সবসময় নিরাপদ অভ্যাসে রূপ নেয় না। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশ কর্মী স্বীকার করেছেন যে একটি সাইবার হামলার পরিণতি অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে এবং ৭২ শতাংশ দাবি করেছেন তারা সন্দেহজনক ইমেইল চিনতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে প্রেরকের পরিচয় যাচাই করেন মাত্র ৫৪ শতাংশ কর্মী।

এআই-নির্মিত ভুয়া বা ডিপফেক কনটেন্টের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা আরও বেশি। অর্ধেকেরও কম (৪৮ শতাংশ) কর্মী জানিয়েছেন যে তারা একটি ‘ডিপফেক’ ভিডিও শনাক্ত করতে সক্ষম।

জিডিপিআরের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা:
এইচডিপিএ মনে করিয়ে দিয়েছে যে কোনো প্রতিষ্ঠানে সাইবার বা তথ্য লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সাধারণ ডেটা সুরক্ষা নীতিমালার (জিডিপিআর) অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুযায়ী তা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

শুধু তাই নয়, জিডিপিআরের অনুচ্ছেদ ৩৪ অনুযায়ী কোনো সাইবার হামলায় নাগরিকদের আর্থিক জালিয়াতি, পরিচয় চুরি বা সংবেদনশীল তথ্যের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরাসরি তা জানাতে হবে। দ্রুত সতর্কবার্তা পেলে ভুক্তভোগীরা সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, ব্যাংক কার্ড ব্লক করাসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিতে পারেন। ঘটনাটি গোপন রাখলে তা নাগরিকদের আরও বড় বিপদে ফেলে দেয় এবং প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে।

এইচডিপিএ জোর দিয়ে বলেছে, সাইবার নিরাপত্তাকে এখন আর কেবল কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন দায়িত্বশীলতাই পারে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখতে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version