শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬   |   ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে নিজেদের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছু হটেছে ইতালি। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার যে পূর্বপরিকল্পনা ছিল, তা থেকে সরে এসে সময়সীমা ২০৩৮ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার পাস হওয়া নতুন এক জ্বালানি বিলে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে আরও ১৩ বছর দেশটির চারটি বড় কয়লা চালিত কেন্দ্র সচল থাকতে পারবে। 

ইতালির জ্বালানিমন্ত্রী গিলবার্তো পিচেটো ফ্রাটিন এই পদক্ষেপকে ‘সঠিক ও দায়িত্বশীল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সরকারের দাবি, গ্যাস ও তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হলে অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিড সচল রাখতে সব ধরণের শক্তির উৎস ব্যবহার করা জরুরি। তবে বিরোধী দল ও পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো একে সরকারের ‘জলবায়ু অবহেলা’ হিসেবে তীব্র সমালোচনা করেছে।

ইতালির এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের অন্য দেশগুলোর জন্য একটি মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। একদিকে জার্মানিও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়লা কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্যদিকে স্পেন ও যুক্তরাজ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলার উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করছে। ২০১৯ সাল থেকে স্পেন তাদের বায়ু ও সৌর শক্তি উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে, যার ফলে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হলেও স্পেনের বিদ্যুৎ বাজারে তার প্রভাব পড়েছে খুবই কম। 

অন্যদিকে, ২৬ মার্চ যুক্তরাজ্য বায়ু শক্তি উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে, যা দিয়ে ২৩ মিলিয়ন ঘরবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। সোলারপাওয়ার ইউরোপের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১ মার্চ থেকে সৌরশক্তি ব্যবহারের ফলে ইউরোপ প্রতিদিন ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি সাশ্রয় করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি গ্যাসের দাম এভাবে বাড়তে থাকে, তবে ২০২৬ সালে ইউরোপের সাশ্রয় ৬৭.৫ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version