রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬   |   ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের দীর্ঘ ১৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলকান রাষ্ট্র মন্টিনিগ্রো। ২০২৮ সালের মধ্যে ব্লকের ২৮তম সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশটি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। গত বুধবার ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতরা মন্টিনিগ্রোর জন্য একটি ‘অ্যাকসেশন ট্রিটি’ বা যোগদান চুক্তির খসড়া তৈরির লক্ষ্যে বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছেন। মন্টিনিগ্রোর ইউরোপীয় বিষয়ক মন্ত্রী মাইদা গরচেভিচ এই অগ্রগতিকে “১৪ বছরের দীর্ঘ ম্যারাথনের শেষ ল্যাপ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এই পদক্ষেপকে ইইউ-তে যোগদানের পথে একটি “বিরাট ধাপ” বলে বর্ণনা করেছেন।

ইইউ সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫টি ‘ক্লাস্টার’ বা শর্তের মধ্যে মন্টিনিগ্রো ইতিমধ্যে ১৪টির আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তবে পূর্ণ সদস্যপদ লাভের জন্য আগামী কয়েক মাস দেশটিকে আইনের শাসন ও মৌলিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। মন্টিনিগ্রোতে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধি দলের উপ-প্রধান রিকার্ডো সেরি সতর্ক করে বলেছেন, সদস্যপদ লাভের এই ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগাতে এখন সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। এবারের যোগদান চুক্তিতে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী সুরক্ষাকবচ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

২০১৩ সালে ক্রোয়েশিয়ার যোগদানের পর মন্টিনিগ্রো এবং আলবেনিয়া ইইউ সদস্যপদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। মজার বিষয় হলো, মন্টিনিগ্রো এখনও ইইউ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও ২০০২ সাল থেকেই ‘ইউরো’কে তাদের মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ইউরোপীয় কমিশনার ফর এনলার্জমেন্ট মার্তা কোস নিশ্চিত করেছেন যে, মন্টিনিগ্রোর সদস্যপদ পাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। মন্টিনিগ্রোর এই অন্তর্ভুক্তি বলকান অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাব আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version