শুক্রবার, ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ২০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গচ্ছিত রাখা ৮৬ টন সোনা লন্ডনে স্থানান্তর করেছে নেদারল্যান্ডস। সংকটের সময় সোনার মজুত দ্রুত ব্যবহার ও লেনদেনের সক্ষমতা বাড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে এই স্থানান্তর সম্পন্ন হয়। নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নিউইয়র্ক ও অটোয়ার তুলনায় লন্ডনে থাকা সোনা সহজে লেনদেন করা যায়। ফলে সংকটময় পরিস্থিতিতে এই সোনা দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওলাফ সেলেইজপেন বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের সোনার মজুত আরও সহজে ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে। কখনো এই সোনা ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না বলে আশা করা হলেও সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুত ছিল ৬১২ দশমিক ৪ টন। এর মূল্য প্রায় ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো। স্থানান্তরের আগে দেশটির মোট সোনার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল অটোয়ায়।

স্থানান্তরের পর নিউইয়র্ক ও অটোয়ায় থাকা সোনার অংশ কমে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে লন্ডনে থাকা সোনার পরিমাণ ১৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, পুরো ৮৬ টন সোনা সরাসরি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হয়নি। কিছু সোনা বিক্রি করে লন্ডনে সমপরিমাণ সোনা কেনা হয়েছে। আবার ২৭ টনের বেশি সোনা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে নেদারল্যান্ডসে এনে পরে একই পরিমাণ সোনা লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। এতে পুরোনো সোনার বার গলিয়ে নতুন করে তৈরির প্রয়োজন হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, লন্ডন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তারল্যসম্পন্ন সোনা লেনদেনের বাজারগুলোর একটি। তাই সংকটের সময় সেখানে থাকা সোনা দ্রুত বিক্রি, ঋণ দেওয়া বা অন্যভাবে ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ।

নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো সোনার মজুত বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রেখে ঝুঁকি কমানো এবং সংকটের সময় দ্রুত তা ব্যবহার করার সক্ষমতা নিশ্চিত করা।


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version