শুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬   |   ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় বাজার ছেড়ে এবার এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায় ক্রেমলিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির সরকারকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ভিজিটিআরকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন জানান, ইউরোপ নিজেই রাশিয়ার গ্যাস ও এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ক্রয়ের ওপর ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ আরোপ করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুশ জ্বালানি পুরোপুরি বন্ধ করার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই রাশিয়া এই আগাম পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

পুতিন বলেন, “ইউরোপ নিজেরাই বলছে তারা নতুন নিয়ম আনবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে। তাই আমাদের জন্য হয়তো ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে নতুন ও লাভজনক বাজারে যাওয়া এবং সেখানে অবস্থান শক্ত করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।”

নতুন বাজার খোঁজার এই প্রচেষ্টায় কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই দাবি করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “এটি স্রেফ একটি কৌশলগত চিন্তা। আমি সরকারকে বলব আমাদের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে মিলে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে। রাশিয়া সবসময়ই তার অংশীদারদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের জন্য ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের ভুল নীতিকে দায়ী করেছেন পুতিন। তার মতে, তথাকথিত ‘গ্রিন এজেন্ডা’ বা পরিবেশ নীতির অপব্যবহার এবং রাশিয়ার ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে এশিয়ায় (বিশেষ করে চীন ও ভারতে) রপ্তানি বাড়ায়, তবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন হতে পারে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version