রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬   |   ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে প্রত্যাশিত সমর্থন না দেওয়ায় দীর্ঘদিনের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র ব্রিটেন ও স্পেনের ওপর কঠোর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল বার্তার বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শাস্তিস্বরূপ ব্রিটেন নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহার এবং স্পেনকে ন্যাটো থেকে বহিষ্কারের মতো চরম পদক্ষেপগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করছে ওয়াশিংটন। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন সরাসরি মন্তব্যে না আসলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মিত্রদের কেবল ‘কাগুজে বাঘ’ হয়ে থাকা আর সহ্য করবে না যুক্তরাষ্ট্র।

ব্রিটেনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর লন্ডনের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে, যা ব্রিটিশদের জন্য এক চরম কূটনৈতিক অপমান। ১৯৮২ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সাথে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা লন্ডনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র সাফ জানিয়েছেন, ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান অপরিবর্তিত এবং দ্বীপবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারই এখানে চূড়ান্ত। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তিনি স্পেনের কোনো ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেবেন না।

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানে আর্জেন্টিনায় উল্লাস দেখা দিলেও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যদিও ন্যাটোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, কোনো সদস্য দেশকে বহিষ্কারের সরাসরি বিধান নেই, তবুও পেন্টাগনের এমন কঠোর বার্তা ঐতিহাসিক ‘স্পেশাল রিলেশনশিপ’-কে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। আগামী সোমবার ব্রিটিশ রাজা চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার ঠিক আগেই এমন উত্তেজনাপূর্ণ খবর আটলান্টিকের দুই পাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

তথ্যসূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version