রবিবার, ৮ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বড় অংকের আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন এই পাইলট প্রকল্পের আওতায়, কোনো অভিবাসী স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে রাজি হলে তাকে ব্যক্তিপ্রতি ১০ হাজার পাউন্ড দেওয়া হবে। পরিবারের ক্ষেত্রে এই সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত হতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার কথা জানান যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই প্রণোদনা গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্য সরকার মনে করছে, অবৈধ অভিবাসীদের আবাসন ও রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে করদাতাদের যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, তিন সদস্যের একটি পরিবারকে যুক্তরাজ্যে রাখতে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার পাউন্ড খরচ হয়।এর বিপরীতে এককালীন সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড দিয়ে তাদের ফেরত পাঠাতে পারলে বছরে প্রায় ২ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে সরকারি আশ্রয়ে থাকা প্রায় ১৫০টি পরিবারকে এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ড দেওয়া হলেও নতুন প্রকল্পে সেই অঙ্ক কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদনকারীদের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল চতুর্থ। ওই সময়ে মোট ৭ হাজার ২২৫ জন বাংলাদেশি আবেদন করেন, যার মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৩০০ জনের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং বাকি ৫ হাজার ৯০০ জনের আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প কার্যকর হলে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এই সুযোগ নিতে পারেন অথবা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে ব্রিটেনের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি এবং রিফর্ম ইউকে এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে। কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ একে “ব্রিটিশ করদাতাদের প্রতি অপমান” বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের জিয়া ইউসুফ মনে করেন, এটি অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের এক প্রকার “পুরস্কার” দেওয়া।

অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্র্যান্ট চিলড্রেনস কনসোর্টিয়াম জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরিবারগুলোকে মাত্র এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হচ্ছে, যা যথেষ্ট নয়। এর ফলে শিশুরা গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে।

ইমিগ্রেশন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন জানান, মূলত ব্যয় কমানো ও দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতেই এই নীতি নেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ দিয়ে মানুষকে দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করা নৈতিক ও মানবিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষ করে শিশুসহ পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এটি মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version