মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬   |   ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের অন্যান্য দেশ যখন তাদের অভিবাসন আইন ও সীমান্ত কঠোর করছে, তখন স্পেনের বামপন্থী জোট সরকারের উদার অভিবাসন নীতি এক নতুন ইতিহাস তৈরি করছে। স্পেনের অভিবাসন মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, অনথিভুক্ত বা অবৈধ প্রবাসীদের আইনি বৈধতা ও রেসিডেন্সি দেওয়ার এই বিশেষ কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ আবেদন জমা পড়েছে। অথচ কর্মসূচিটি শুরুর সময় সরকার মাত্র ৫ লাখ আবেদনের আশা করেছিল। রিফিউজি এইড অর্গানাইজেশন ‘সিইএআর’ (CEAR)-এর ধারণা অনুযায়ী, এই বিশেষ প্রোগ্রামের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে মোট আবেদনের সংখ্যা ১ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।

গত এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া এই ড্রাইভের মাধ্যমে সরকার ইতিমধ্যেই ৩,৬০,০০০ জনকে সাময়িক ওয়ার্ক পারমিট প্রদান করেছে, যা মোট আবেদনের প্রায় ৪০ শতাংশ। এই কর্মসূচির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, কোনো অভিবাসীর আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য গৃহীত বা অ্যাডমিট হওয়ামাত্রই তিনি স্পেনে আইনগতভাবে কাজ শুরু করার অনুমতি পাচ্ছেন। স্পেনের অভিবাসন প্রতিমন্ত্রী পিল্যার কানসেলা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে ১০ লাখ আবেদন হ্যান্ডেল বা যাচাই-বাছাই করার পূর্ণ সক্ষমতা স্প্যানিশ প্রশাসনের রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত দুই বছরে স্পেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইউরোপের অন্যান্য বড় দেশের (যেমন জার্মানি বা ফ্রান্স) চেয়ে অনেক বেশি থাকার অন্যতম প্রধান কারণ এই অভিবাসী কর্মীরা। তারা স্পেনের আতিথেয়তা, রেস্তোরাঁ এবং বয়স্কদের সেবা খাতের তীব্র কর্মী সংকট দূর করার পাশাপাশি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে বিপুল পরিমাণ কর বা কন্ট্রিবিউশন জমা দিচ্ছেন।

থিংক-ট্যাংক ‘ফুঙ্কাস’ (Funcas)-এর মতে, স্পেনের জটিল ও দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে কলম্বিয়া বা সেনেগালের মতো দেশ থেকে আসা হাজার হাজার শরণার্থী বছরের পর বছর অবৈধভাবে এবং কম বেতনে ‘অন্ধকারের অর্থনীতিতে’ কাজ করতে বাধ্য হচ্ছিলেন, যাদের ৯০ শতাংশ আশ্রয়ের আবেদনই সাধারণ নিয়মে বাতিল হয়ে যায়। সিইএআর (CEAR)-এর পরিচালক মনিকা লোপেজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, এটি একটি অসাধারণ ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তবে সমাজ থেকে এই অনথিভুক্ত মানুষদের স্থায়ীভাবে মূলধারায় ফেরাতে এবং তাদের প্রান্তিকীকরণ রোধ করতে ভবিষ্যতে ওয়ার্ক পারমিটের নিয়মগুলোকে স্থায়ীভাবে আরও সহজ ও কাঠামোগত করা উচিত।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version