বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২৬   |   ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী কর্মীদের আড়ালে রাখার নির্দেশ নিয়ে বিতর্কের জেরে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্যাট্রিক ব্রাঙ্কো রুইভো পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে তিনি পদ ছাড়বেন বলে জানিয়েছে আইফেল টাওয়ার অপারেটিং কোম্পানি (সেতে)।

গত ৫ সেপ্টেম্বর হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন ‘বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা’র (বিএপিএস) একটি প্রতিনিধিদলের আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনের সময় নারী কর্মীদের আড়ালে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কর্মীরা একদিনের কর্মবিরতি পালন করেন এবং টাওয়ারটি বন্ধ রাখতে হয়।

ঘটনার পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে সেতে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তদন্তে ওই সফরের পরিকল্পনা ও আয়োজনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক কিছু সমস্যা ও ত্রুটি ধরা পড়েছে। এর ফলেই পরিদর্শনের দিন নারী কর্মীদের বাদ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি একটি অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’

কর্মীদের অভিযোগ ছিল, শুধু লিঙ্গের কারণে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ দায়িত্ব ছেড়ে আলাদা কক্ষে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। কিছু ক্ষেত্রে নারী কর্মীদের বদলে পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদলটি টাওয়ারে অবস্থান করার সময় নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রবেশ ও চলাচল থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়।

কর্মীরা এক বিবৃতিতে বলেন, সমতা ও বৈষম্যহীনতার মূলনীতির সঙ্গে ‘সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী’ এমন একটি পরিস্থিতিতে তারা স্তম্ভিত হয়েছেন।

তারা আরও বলেন, ‘আইফেল টাওয়ার ফ্রান্সের একটি প্রতীক। আমরা বিশ্বাস করি, এর প্রচারিত আদর্শ এবং কর্মীদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রেও এটিকে দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে।’

সেতে জানায়, বিএপিএস প্রতিনিধিদল নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা মিথস্ক্রিয়া সীমিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে এমন শর্ত মেনে নেওয়া ‘একেবারেই অনুচিত’ হয়েছে বলে স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ঘটনার কারণে সৃষ্ট অস্বস্তির জন্য বিএপিএস পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছে।

প্যারিস সিটি হলও এ ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ বলেছে, ফরাসি প্রজাতন্ত্রের অন্যতম মূলনীতি ‘সমতা’ বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া হয়েছে।

বিএপিএসের সদস্যরা প্যারিসের পূর্বে বুসি-সেন্ট-জর্জে সংগঠনটির প্রথম ঐতিহ্যবাহী মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যান। সংগঠনটি একটি রক্ষণশীল হিন্দু ধর্মীয় ধারা অনুসরণ করে।

বিএপিএস জানায়, তাদের ৯৩ বছর বয়সী আধ্যাত্মিক নেতা মহন্ত স্বামী মহারাজসহ বেশ কয়েকজন সন্ন্যাসী সফরে থাকায় তারা ওই অনুরোধ করেছিল। সংগঠনটির ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী, নারীদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ নিষিদ্ধ।

প্যাট্রিক ব্রাঙ্কো রুইভো ফ্রান্সের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাবেক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘ইকোল ন্যাশনাল দ্য আডমিনিস্ট্রেশন’-এর সাবেক শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বন্ধ।

তিনি প্যারিসের সাবেক মেয়র আন হিদালগোর জনসেবা আধুনিকীকরণবিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে তাকে সেতে-এর মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version