শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬   |   ২২শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু পরিবর্তনের এক বিচিত্র ও ভয়াবহ প্রভাবে ফ্রান্সের আবাসন খাতে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ঘরবাড়ি এখন ‘শ্রিঙ্কিং-সোয়েলিং’ বা মাটির সংকোচন ও প্রসারণজনিত কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। 

ফরাসি সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, অত্যধিক দাবদাহে মাটির নিচের কাদা স্তর শুকিয়ে সংকুচিত হওয়া এবং পরবর্তী ভারী বর্ষণে তা আবার ফুলে ওঠার ফলে এই সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই ক্রমাগত প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার বাড়ির দেওয়ালে ও মেঝেতে বিশালাকার ফাটল দেখা দিচ্ছে, দরজা-জানালা বেঁকে যাচ্ছে এবং মাটির নিচের পানির পাইপ ফেটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। বর্তমানে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা এই সমস্যার ‘মাঝারি বা উচ্চ’ ঝুঁকিতে রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির প্রায় ৫৪ শতাংশ একক বাড়ির ওপর।

বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৫ সালের রেকর্ডভাঙা উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল এবং চলতি বছরের নজিরবিহীন অতিবৃষ্টি এই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বাতাস বাড়তি ৭ শতাংশ আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারায় একদিকে যেমন তীব্র খরা দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিধ্বংসী বন্যার প্রকোপ। বিশেষ করে ১৯৭০-এর দশকের কংক্রিট ব্লকে নির্মিত বাড়িগুলো এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে পারছে না। 

এই সংকট মোকাবিলায় ফরাসি সরকারকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১০০ কোটি ইউরো ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আলিয়ার, দোরদোন ও তর্ন-এর মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে ‘আর্জিল প্রিভেনশন ফান্ড’ নামে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করেছে ফ্রান্স সরকার, যার মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বাড়িগুলোর স্থায়িত্ব পরীক্ষা ও সংস্কার নিশ্চিত করা হবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version