আগামী বছর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন এমন দুই শীর্ষ রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে রাশিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ভুয়া খবর’ ছড়াচ্ছে বলে সন্দেহ করছে প্যারিস। সংশ্লিষ্ট এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ওই রাজনীতিবিদদের একজন এই তথ্য জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিষেবার একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জানিয়েছে, ফরাসি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে রাফায়েল গ্লুক্সম্যানকে লক্ষ্য করে চালানো একটি অপপ্রচার অভিযান শনাক্ত করেছে। গ্লুক্সম্যান ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন বামপন্থী সদস্য এবং ক্রেমলিনের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত, যিনি আগামী বছরের নির্বাচনে দেশটির শীর্ষ পদের জন্য লড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, এই অপপ্রচারের মূল উৎস অনুসন্ধান করে ‘স্টর্ম-১৫১৬’ নামক একটি প্রোপাগান্ডা নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে, যার সাথে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।
গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্লুক্সম্যান লিখেছেন, ‘২০২৭ সালের নির্বাচনী প্রচারণাকে অস্থিতিশীল করতে রুশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের তৎপরতা শুরু করেছে।’
তিনি জানান, তাঁর প্রার্থিতা বাড়ানোর একটি কাল্পনিক ষড়যন্ত্রের বানোয়াট গল্প ‘ব্লাস্ট’ নামক একটি মূলধারার অনলাইন পোর্টালের আদলে তৈরি করা একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি নকল কণ্ঠস্বর, জাল নথিপত্র এবং একটি ‘সম্পূর্ণ ভুয়া ভিডিও’ যুক্ত করা হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার হওয়া গ্লুক্সম্যান বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো একটি সম্পূর্ণ মিথ্যাকে ভাইরাল করে এমন ব্যক্তিদের চরিত্র হনন করা, যাদের রুশ শাসকগোষ্ঠী তাদের শত্রু বলে মনে করে।’
আদালতে জালিয়াতির দায়ে দণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও মারিন ল্য পেন চতুর্থবারের মতো এলিসি প্যালেসের লড়াইয়ে নামছেন। যার ফলে ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থীরা আগামী বছরের নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে সবচেয়ে বড় সুযোগ দেখছে।
নিরাপত্তা সূত্রটি জানিয়েছে, এই ‘স্টর্ম-১৫১৬’ নেটওয়ার্কটি গত মাসে আরেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এদুয়ার ফিলিপকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। মধ্যপন্থী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে উগ্র ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল।
এমনকি গত ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সাথে সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের কাল্পনিক সম্পর্ক নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর পেছনেও এই রুশ নেটওয়ার্কটি জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এএফপি
