শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের কালে শহরের কাছে ইংলিশ চ্যানেলের নিচ দিয়ে যাওয়া রেল সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখে একটি মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে ১৯ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বাসচালক ও এক যাত্রীর অবস্থা গুরুতর। তবে কারও আঘাতই প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে দেশটির কোকেল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিবিসি জানায়, সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখে যানবাহন পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত রেল প্ল্যাটফর্মে চলন্ত একটি মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। বাসটিতে কয়েকজন ট্রাকচালক ছিলেন। ইংলিশ চ্যানেল পার হতে তাঁদের লে শাটল ট্রেনে ওঠার কথা ছিল।

আহত বাসচালক ও এক যাত্রীকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্য আহতদেরও বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আগাত কুরি জানান, প্ল্যাটফর্মের দুই পাশে দুটি ট্রেন ছিল। একটিতে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক তোলা হচ্ছিল। অন্য ট্রেনটিতে আগে থেকেই মালামাল তোলা ছিল এবং সেটি প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাচ্ছিল। এ সময় একটি ছোট বাস চলন্ত ট্রেনটির সঙ্গে ধাক্কা খায়।

তিনি বলেন, কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি। সংঘর্ষে বাসটি উল্টে যায়নি। তবে ধাক্কায় বাসের যাত্রীরা আহত হন।

আহতদের সরিয়ে নিতে কিছু সময় লে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে তা স্বাভাবিক হয়। তবে মালবাহী ট্রেন ও ইউরোস্টারের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

কুরি জানান, বাসটি শ্রমিক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। এতে থাকা সব যাত্রীই পুরুষ এবং তাঁদের জাতীয়তা ভিন্ন ভিন্ন। আহতদের মধ্যে কোনো ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার সময় বিবিসির সাংবাদিক ইভান ডেভিস ইউরোটানেল দিয়ে ফ্রান্সের কালে শহরে যাচ্ছিলেন। ফ্রান্সে প্রবেশের সময় তিনি প্ল্যাটফর্মের কাছে জরুরি সেবার গাড়িগুলোকে নীল বাতি জ্বালিয়ে জড়ো হতে দেখেন।

ঘটনাস্থল থেকে তিনি জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে প্রবেশপথে অনেক গাড়িকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন। কয়েকটি গাড়িকে নিবন্ধন ও পরীক্ষার স্থান পার হতেও দেখেন। সংঘর্ষের পরও অন্য গাড়ির চলাচল বন্ধ রাখা হয়নি।

স্থানীয় সংবাদপত্র লা ভোয়া দ্য নর-এর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি ছোট বাসের সামনের ও পাশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসটি একটি ট্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে জরুরি সেবাকর্মীদেরও দেখা যায়।

ইউরোস্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ইংলিশ চ্যানেলের সুড়ঙ্গ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ঘটেছে। এর সঙ্গে লন্ডন থেকে চলাচলকারী ইউরোস্টারের ট্রেনগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। দুর্ঘটনার কারণে এসব ট্রেনের চলাচলেও কোনো প্রভাব পড়েনি। ইউরোস্টারের সব ট্রেন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে।

ইউরোটানেল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যবর্তী সমুদ্রের নিচ দিয়ে গেছে। এটি ইংল্যান্ডের কেন্টের ফোকস্টোন থেকে ফ্রান্সের কোকেল পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সুড়ঙ্গ দিয়ে তিন ধরনের রেলসেবা পরিচালিত হয়। ইউরোস্টার যাত্রীদের লন্ডন থেকে ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়ে যায়। মালবাহী ট্রেনে পণ্য পরিবহন করা হয়। আর লে শাটল ট্রেনে গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন পরিবহন করা হয়।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version