ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী সংঘাত বিশ্বকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফ্রান্সের আকস্মিক ‘পারমাণবিক সক্ষমতা’ বৃদ্ধির ঘোষণা এবং মিত্র দেশগুলোর সরাসরি যুদ্ধের হুমকিকে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের’ স্পষ্ট পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সোমবার (২রা মার্চ) ফ্রান্সের কৌশলগত ‘ল’ইল লং’ সাবমেরিন ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক ঐতিহাসিক ও যুদ্ধংদেহী ঘোষণা দেন। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম প্যারিস তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে দেশটির হাতে ২৯০টি ওয়ারহেড থাকলেও, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হবে। ম্যাক্রোঁ সাফ জানিয়েছেন, “ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।”
এদিকে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা তাদের উৎসমুলেই ধ্বংস করার অঙ্গীকার করেছে। সৌদি আরব, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মিত্রদের রক্ষায় তারা প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটি এবং ফ্রান্সে একটি নৌ-ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইউরোপীয় শক্তিগুলোর এই রণপ্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে।
ম্যাক্রোঁ আরও ঘোষণা করেছেন যে, ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমানগুলো এখন থেকে মিত্র দেশ পোল্যান্ড, জার্মানি ও গ্রিসে সাময়িকভাবে মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের সাথে যৌথভাবে ‘অতি-দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র’ (লং- রেঞ্জ মিসাইল) তৈরির মেগা প্রজেক্ট শুরু করেছে প্যারিস। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই সম্মিলিত তৎপরতা মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
