মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে মাত্র চার মাসে ৪২টি ভারী ট্রাক চুরি করে পর্তুগালে পাচারের অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক পর্তুগিজ প্রবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেছে দেশটির আদালত। এই চুরির ঘটনার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ (১.৩ মিলিয়ন) ইউরোর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের কাছে ‘ট্রাক ও নির্মাণ সরঞ্জাম চোরদের রাজা’ হিসেবে পরিচিত রাফায়েল সি. নামের ওই ব্যক্তি তাঁর ভাই ও এক সহযোগীকে নিয়ে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রটি পরিচালনা করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র পরিচালনা, দলবদ্ধভাবে চুরি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে রাফায়েল গত বছরের জুন মাস থেকে ফ্রান্সে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীর রেস্তোরাঁ এবং সাধারণ নির্মাণ খাতে কাজ করেন। তবে চলতি সপ্তাহে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করায় ফ্রান্স ও পর্তুগাল উভয় দেশের গণমাধ্যমেই বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ফরাসি পত্রিকা ‘ল্য প্যারিসিয়েন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসের উপশহর পুতো এলাকায় একটি ট্রাক চুরির পর এই চক্রের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে ওত-দ্য-সেন পুলিশ। তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন যে তারা এমন এক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মুখোমুখি হয়েছেন যারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে ট্রাক চুরি করত এবং প্রতিবারই একই চেনা কৌশল ব্যবহার করত।

তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা সাধারণত রাতের আঁধারে উপযুক্ত ট্রাকের খোঁজে বের হতেন। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পর তারা ট্রাকের কেবিন খুলে ভেতরের জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেমটি অকেজো করে দিতেন এবং বিশেষ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সাহায্যে গাড়ি চালু করে নিয়ে যেতেন। এরপর কোনো অতিরিক্ত ট্র্যাকিং ডিভাইস রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে ট্রাকগুলো কয়েক দিন সাধারণ পার্কিংয়ে ফেলে রাখা হতো। সবশেষে ভুয়া লাইসেন্স প্লেট লাগিয়ে মহাসড়ক দিয়ে ট্রাকগুলো সরাসরি পর্তুগালে পাঠিয়ে দেওয়া হতো, যেখানে আগে থেকেই ক্রেতারা প্রস্তুত থাকতেন।

গত বছরের জুনের শেষে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে ফরাসি পুলিশ। রাফায়েলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ২৭ হাজার ইউরো এবং ৮০ হাজার ইউরো মূল্যের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ১৩ বছর ধরে ফ্রান্সে বসবাসকারী দুই সন্তানের জনক রাফায়েল ফ্রান্সে আসার আগে পর্তুগালে একটি স্ক্র্যাপইয়ার্ড পরিচালনা করতেন।

রাফায়েল ও তাঁর ভাই চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলেও, রাফায়েল স্বীকার করেছেন যে তিনি একটি চুরির স্থানে হয়তো উপস্থিত ছিলেন, তবে সেখানে কোনো অপরাধ ঘটছে তা তাঁর জানা ছিল না।

অন্যদিকে পাওলো নামের অপর এক সহযোগী অপরাধের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত জুনে পাওলোকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাফায়েলের আইনজীবী আলেক্সান্দ্রে সিমোনিন পুরো ঘটনাকে ‘আইনি বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে তাঁর মক্কেলের মুক্তির জন্য ভার্সাই তদন্ত চেম্বারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত তাঁর সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version