শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬   |   ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে তীব্র দাবানল চরম রূপ ধারণ করেছে। এর মধ্যেই অঞ্চলটিতে তাপমাত্রা বেড়ে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর, যা বিদ্যমান অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। উপকূলরেখা ও বোর্দোর মধ্যবর্তী জিরোন্দ অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২,০০০ দমকলকর্মী দিনরাত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাতীয় দমকলকর্মী ফেডারেশনের মুখপাত্র এরিক ব্রোকার্ডি এই অসম লড়াইকে বাইবেলের ‘গোলিয়াথের বিরুদ্ধে ডেভিডের লড়াইয়ের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আগুন নেভাতে গিয়ে ফ্রান্সজুড়ে চারজন দমকলকর্মী মারা গেছেন। জিরোন্দের প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি স্থানে নতুন করে আগুন জ্বলে ওঠায় বিপদ এখনো কাটেনি।

দাবানলের কারণে অঞ্চলজুড়ে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২৪০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। জিরোন্দের অনেক ক্যাম্পিং সাইট খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ায় এবং ছাই ছড়িয়ে পড়ায় উপকূলীয় শহর বোর্দোর বায়ুর মান চরম অবনতি ঘটেছে। সরকার স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

দাবানল কেবল ফ্রান্সে নয়, প্রতিবেশী স্পেন ও পর্তুগালেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। স্পেনের মাদ্রিদ অঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতির পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সংকট উত্তরণের আশা প্রকাশ করেছেন। সেখানে স্থানান্তরিত ৪৪,০০০ মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, পর্তুগালের গুয়ার্দা এলাকায় ৪০০ দমকলকর্মী তিনটি ফ্রন্টে বিশাল এক দাবানল মোকাবিলা করছেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এসব অগ্নিকাণ্ডে জড়িত বা নাশকতার সন্দেহে এ পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভার অঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সংকেত মিললেও, গ্রীষ্মের ভরা মৌসুমে দাবানল ও ধোঁয়ার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় অঞ্চলের আতিথেয়তা ও ওয়াইন ব্যবসা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version