ফ্রান্সে এরাসমাস কর্মসূচির আওতায় পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া তুরস্কের এক শিক্ষার্থীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভিসার আবেদনে ব্যবহৃত বায়োমেট্রিক ছবিতে মাথায় স্কার্ফ থাকায় তাঁকে মাথা অনাবৃত করে নতুন ছবি জমা দিতে বলা হয়েছিল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানায়, গালাতাসারায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিষয়ে পড়াশোনা করা ওই শিক্ষার্থী এরাসমাস কর্মসূচির আওতায় ফ্রান্সের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি একটি শিক্ষাবৃত্তির জন্যও যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে তুরস্কে ফ্রান্সের অনুমোদিত ভিসা আবেদনকেন্দ্র ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে তিনবার আবেদন করেও ভিসা পাননি তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই শিক্ষার্থী বলেন, একই সময়ে তাঁর কয়েকজন বন্ধু মাথায় স্কার্ফ পরা ছবি দিয়েই ফরাসি ভিসা পেয়েছেন। ফলে তাঁর ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিক্ষার্থীর ভাষ্য, প্রথম আবেদনটি ‘নিরাপত্তাহীনতা’-সংক্রান্ত কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়। যদিও এরাসমাস কর্মসূচির আওতায় ফ্রান্সে তাঁর পড়াশোনা ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছিলেন তিনি।
দ্বিতীয়বার এক বন্ধুর সঙ্গে আবেদন করেন তিনি। ওই বন্ধু ভিসা পেলেও তাঁর আবেদন আবারও প্রত্যাখ্যান করা হয়। এবার ভিন্ন কারণ দেখানোয় তৃতীয়বার আবেদন করে প্রত্যাখ্যানের লিখিত ব্যাখ্যা চান তিনি।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে ইস্তাম্বুলে ফরাসি কনস্যুলেট জেনারেলের কাছে জমা দেওয়া তাঁর আবেদনপত্র ফেরত দেওয়া হয়। এর সঙ্গে দেওয়া নথিতে ছবিতে মাথা অনাবৃত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ ছিল বলে জানান তিনি।
সরবোনে পড়ার সুযোগ হারানোয় হতাশা প্রকাশ করে ওই শিক্ষার্থী বলেন, তাঁর জন্য হেডস্কার্ফ খুলে ছবি দেওয়া কোনো বিকল্প নয়। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং ভিসা আবেদনকেন্দ্রের কর্মীদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
