শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬   |   ২৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানিতে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা উগ্র ডানপন্থী বা নব্য-নাৎসি তরুণ অপরাধী চক্রগুলোর সন্ধানে দেশজুড়ে বড় ধরনের অভিযানে নেমেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত বুধবার জার্মানির ১২টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৫০টি স্থানে একযোগে এই তল্লাশি চালানো হয়। বাভারিয়া, বার্লিন এবং স্যাক্সনিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৬০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য এই বিশেষ অভিযানে অংশ নেন। মূলত ‘জুং অ্যান্ড স্টার্ক’ এবং ‘ডয়েচে ইউগেন্ড ফোরান’ নামক দুটি ভয়ংকর উগ্রপন্থী গ্রুপের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই গ্রুপগুলো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে দেশব্যাপী এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। তারা মূলত ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে এবং মার্শাল আর্ট বা আত্মরক্ষা শেখানোর আড়ালে সরাসরি মারামারি ও সহিংসতায় উসকে দেয়। বিশেষ করে সমকামী সম্প্রদায় এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের ওপর অতর্কিত হামলা ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তদন্তে দেখা গেছে, এই তরুণ গ্যাংগুলো টেলিগ্রাম ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের উগ্রবাদী প্রচারণা চালায়।

২০২৪ সালের পর থেকে জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এমন অনেক ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছে, যারা সরাসরি রাজপথে মারামারি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে বিশ্বাসী। পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যদিও বুধবারের অভিযানে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে তাদের গোপন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জার্মানির বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকারের একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version