ধর্মীয় রীতির দোহাই দিয়ে বাল্যবিবাহের পক্ষে সাফাই গেয়ে ইউরোপের দেশ ইতালি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন এক পাকিস্তানি ইমাম। বিতর্কিত এই ইমামের নাম আলী কাশিফ, যিনি দেশটির ব্রেশিয়া শহরে বসবাস করতেন। শিশুদের অধিকার খর্বকারী উগ্র ও অবৈজ্ঞানিক মন্তব্য করায় ইতালি সরকার তাঁকে জননিরাপত্তার জন্য ‘সামাজিক ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তৎক্ষণাৎ নিজ দেশ পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছে।
ঘটনাটির সূত্রপাত হয় একটি গোপন ক্যামেরার সাক্ষাৎকারে। সেখানে ইমাম আলী কাশিফ দাবি করেন, শারীরিক পরিবর্তন হলে ৯ বছর বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যায় এবং এটি একটি ‘ঐতিহ্য’। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ইতালিজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দেশটির প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ধর্মের দোহাই দিয়ে কোনোভাবেই শিশুদের শৈশব কেড়ে নেওয়া যাবে না।
ইতালির ব্রেশিয়ার ইসলামিক কালচারাল সেন্টার এই ইমামের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, আলী কাশিফের বক্তব্যের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এই ধরনের চিন্তা ধর্মীয় শিক্ষার পরিপন্থী এবং উগ্রবাদী। সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের সংবিধান বা পবিত্র কুরআন কোথাও শিশুদের অধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ নেই; বরং ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়।
ইতালির সরকার ও প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় মানুষ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। ইতালীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা উগ্র মতাদর্শ প্রচার করে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়, তাদের জন্য এই বহিষ্কার একটি কড়া বার্তা। বর্তমানে ওই ইমামকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির প্রক্রিয়া চলছে।
