ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের নতুন ‘স্কুল ডিক্রি’ ও বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে রাজধানী রোমের তরপিনাত্তারায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইতালীয় মানবাধিকারকর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, শিক্ষার্থী ও অভিবাসী পরিবারগুলো অংশ নেন।
বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নুরে আলম সিদ্দিকী বাচ্চুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ সমাবেশ থেকে ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধকরণ এবং শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে ‘বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে অংশ নেওয়া স্থানীয় ইতালীয় আন্দোলনকারীরা বলেন, বহু সংস্কৃতি ও বিভিন্ন দেশের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য পরিচিত তরপিনাত্তারা এলাকা। সরকারের ধারাবাহিক আক্রমণের প্রতিবাদে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন।
এক ইতালীয় নারী প্রতিনিধি বলেন, “স্কুলে কতজন অভিবাসী শিশু থাকতে পারবে, তা সীমিত করা কিংবা মুসলিম নারীরা কী পোশাক পরবেন, তা ঠিক করে দেওয়ার মতো প্রস্তাবনায় মানুষ ক্লান্ত। চারপাশে যে বর্ণবাদী আবহ তৈরি করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ একত্র হয়ে ‘আর না’ বলে প্রতিবাদে সামিল হয়েছে।”
সমাবেশে প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। এক বাংলাদেশি ছাত্রী বলেন, “শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের পরিচয় একটিই—আমরা স্টুডেন্ট। এখানে কোনো কোটা থাকা উচিত নয়। আর হিজাব পরা বা না পরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হওয়া উচিত।”
প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা মেলোনি সরকারের নীতিকে ইতালির ঐতিহ্যগত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাসরত অভিবাসীরা জানান, তাঁরা দেশটির আইন মেনেই শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন।
একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তরপিনাত্তারার এ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রবাসীরা হুঁশিয়ারি দেন, সরকার এসব নীতি পরিবর্তন না করলে ভবিষ্যতে পুরো ইতালিতে আরও বড় পরিসরে বৈষম্যবিরোধী ও মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মিনহাজ হোসেন, ইতালি
