মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালির মিলানে দুই দিনের বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর শহরটির নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার বিলাসবহুল দোকানগুলো আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক দোকানের জানালাও কাঠের পাটাতন ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি বলেন, ‘মিলানকে রক্ষা করতে’ অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হবে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সম্পত্তি ভাঙচুরের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ইতালির ক্ষমতাসীন জোটের ডানপন্থী দল লিগের প্রধান সালভিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘কথা থেকে এবার কাজে: মিলানকে রক্ষা করতে আরও ৫০০ সেনা।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে এমন একটি নিরাপত্তা প্যাকেজে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতালির সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিরোধমূলক আটকের মেয়াদ বাড়ানো এবং দলবদ্ধ জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ও রয়েছে।

সরকারি সেবার নিম্নমান ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) মিলানে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে শান্তিপূর্ণ থাকলেও সপ্তাহান্তে তা সহিংস রূপ নেয়। কয়েক শ মুখোশধারী বিক্ষোভকারী শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় ডাস্টবিনে আগুন দেয় এবং বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালায়। তাদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, লুটপাটের শিকার দোকানগুলোর মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রীর বিক্রেতা ডেকাথলন ও আর্ক’টেরিক্স এবং মোবাইল ফোন অপারেটর ভোডাফোনের দোকান রয়েছে। এ ছাড়া লিভাইস ও আন্ডার আর্মারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানের জানালা কার্ডবোর্ড ও কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

মিলানের বিলাসবহুল কেনাকাটার জন্য বিখ্যাত ভিয়া মনতেনাপোলেওনে সড়কের অধিকাংশ দোকানও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। দোকানগুলোর শোকেস থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সড়কে শ্যানেল, টিফানি ও ডিওরের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দোকান রয়েছে।

মিলানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সপ্তাহান্তের সংঘর্ষের পর সোমবার দোকানপাটের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রয়টার্সের ছবিতে দেখা যায়, লিভাইস ও আন্ডার আর্মারের দোকানের জানালা কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা সরকারের
আগামী বছর জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। সোমবার মন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘রাষ্ট্রের ওপর এসব হামলার জবাব সরকার কঠোরভাবে দেবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সহিংসতা দমনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিরোধমূলক আটকের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে মেলোনির সরকার। পাশাপাশি তরুণদের অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে। কোরিয়েরে দেলা সেরা জানিয়েছে, পার্লামেন্টে পর্যালোচনাধীন একটি নিরাপত্তা বিলের কিছু বিধান দ্রুত কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর, ডাস্টবিন ও চেয়ার ছুড়ে মারেন। তাঁদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) মিলানে সহিংসতার ঘটনায় ২৭১ জন তরুণকে আটক করা হয়। সোমবার পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া আরও ২৮ জনের বিষয়ে বিচারিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার উত্তর ইতালির বোলোনিয়া, ব্রেসিয়া, বেরগামো ও তুরিনসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশের রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরিনে ২৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মিলানের এই অস্থিরতার সঙ্গে প্রতিবেশী ফ্রান্সের পরিস্থিতিরও মিল রয়েছে। শনিবার ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে কয়েক লাখ মানুষ রাস্তায় নামেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভগুলোর একটি ছিল সেটি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version