বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ২৯ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইতালির পর্যটন নগরী ভেনিসে অবৈধভাবে পণ্য বিক্রির অভিযোগে তিন বাংলাদেশি হকারকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে স্থানীয় পুলিশ। শহরের ঐতিহাসিক ও পর্যটন এলাকায় অবৈধ হকারি ঠেকাতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভেনিসের ব্যস্ত পর্যটন এলাকায় ফুটপাত ও জনসমাগমস্থলে অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছিলেন ওই তিনজন। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে বিক্রয়যোগ্য পণ্য জব্দ করা হয় এবং বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মোটা অঙ্কের প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হয়। জরিমানার পরিমাণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হলেও এটি কয়েক হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে বলে ইতালির স্থানীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভেনিস সিটি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ বলছে, ঐতিহাসিক শহরের সৌন্দর্য রক্ষা, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অবৈধ হকারির বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে শহরে ভিড় বাড়লে অবৈধ বিক্রি ও অননুমোদিত কার্যক্রমও বেড়ে যায়, যা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ইতালির আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত অনুমতি ছাড়া জনসাধারণের স্থানে পণ্য বিক্রি করলে জরিমানা ছাড়াও পণ্য জব্দ, পুনরাবৃত্ত অপরাধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বা আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে। কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্রে সমস্যা থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাষাগত বাধা, বৈধ কাজের সুযোগের সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক প্রবাসী অবৈধ হকারিতে জড়িয়ে পড়েন। তবে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে ইতালির পর্যটন নগরীগুলোতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ দিন দিন কঠোর হচ্ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় আইন-কানুন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে বৈধ কাজের পথ বেছে নেওয়াই নিরাপদ। অবৈধ হকারিতে জড়ালে বড় অঙ্কের জরিমানা তো বটেই, ভবিষ্যতে বসবাস বা কাজের অনুমতি নিয়েও জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version