রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬   |   ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী শনিবার কাস্টিলেজোস (স্থানীয় নাম ফিনাইদাক) শহরের কাছে লুকিয়ে থাকা শত শত অভিবাসীকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে সেউতায় প্রবেশের এক গণচেষ্টায় ১৪১ জনের মৃত্যুর ট্র্যাজেডির পর এই নতুন অভিযান চালাল মরক্কো।

মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, মূলত উপ-সাহারা আফ্রিকা অঞ্চল থেকে আসা এই অভিবাসীরা ফিনাইদাকের উপকণ্ঠে লুকিয়ে ছিল। মরক্কোর গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযান চালিয়ে ২৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যাদের মধ্যে ৪৬ জন মরক্কোর নাগরিক এবং বাকিরা উপ-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা।

স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফই-এর বরাতে জানা গেছে, সেউতার দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি পার্বত্য এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে লুকিয়ে থাকা দলটিকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসীরা এখনও ওই পার্বত্য এলাকায় অবস্থান করছে, যদিও সীমান্ত বেষ্টনীর দিকে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার কোনো চেষ্টা তারা করেনি।

সেউতায় প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ২৫ বছর বয়সী সুদানি অভিবাসী শামস এদিন ইয়াকুব বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, ‘সেউতা বা ইউরোপে মানুষের যত্ন নেওয়া হয়। এখানে কোনো কাজ নেই, টাকা নেই, থাকার জায়গা নেই। আমি কসম খেয়ে বলছি, এখানে আসলে কিছুই নেই।’

এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ (যাদের বেশিরভাগই মরক্কোর পুরুষ) সেউতায় প্রবেশের এক গণচেষ্টায় অংশ নিয়েছিল। তবে তাদের সিংহভাগকেই পরবর্তীতে মরক্কোয় ফেরত পাঠিয়েছে স্পেন কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সকালে ফিনাইদাক শহরের কেন্দ্রস্থল শান্ত থাকলেও সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন দেখা গেছে। বিশেষ করে তেতুয়ান ও তানজিয়ার থেকে শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে কড়া তল্লাশি চালাচ্ছে।

শনিবার ভোরের দিকে সেউতা সীমান্তের স্থল ও জলভাগে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। মরক্কোর রাজকীয় নৌবাহিনীর দ্রুতগতির বোট এবং নজরদারি ড্রোন এই নিরাপত্তা অভিযানে অংশ নেয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জোরদার করা হয়েছে তা উঠে এসেছে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীর কথায়। তেতুয়ান থেকে বাসে করে রাতে কাস্টিলেজোসে পৌঁছানো এই তরুণী ইএফই-কে জানায়, মাত্র ৩৫ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথে বাসটিকে তিনটি পুলিশ চেকপোস্টে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে।

মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেউতা সীমান্তে দলে দলে জড়ো হওয়ার একটি ডাক ছড়িয়ে পড়ার পর মরক্কো সরকার এই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এর আগে গত ৩০ ও ৩১ জুলাই হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে এবং সাঁতরে স্প্যানিশ ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সেই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে অন্তত ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা মরক্কো ও স্পেন সীমান্তে এ যাবৎকালের অন্যতম বড় প্রাণহানির ঘটনা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version