বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেতন, কর্মপরিবেশ ও আলাদা ক্যারিয়ার কাঠামোর দাবিতে আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধর্মঘটে গেছেন পর্তুগালের অভিবাসন ও আশ্রয় সংস্থা আইমার (AIMA) কর্মীরা।

ইউনিয়ন অব মাইগ্রেশন টেকনিশিয়ানস (এসটিএম) এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আইমার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আইমার জন্য এমনিতেই অস্থির সময়ের মধ্যে এই ধর্মঘট হচ্ছে। সম্প্রতি সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেছেন। একই সময়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কারিগরি ক্যারিয়ার কাঠামো চালুর বিষয়ে আলোচনাতেও অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছে এসটিএম।

এসটিএমের অন্যতম দাবি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করা জিএনআর ও পিএসপির সদস্যরা যে ধরনের অতিরিক্ত ভাতা পান, অভিবাসন কর্মকর্তাদেরও সমপরিমাণ ভাতা দিতে হবে।

ইউনিয়নটির দাবি, তাদের এসব দাবির পেছনে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজের ‘বিশেষ ধরন ও জটিলতা’ বিবেচনায় নিয়ে তাদের পেশাগত স্বীকৃতি ও বেতন-ভাতা বাড়ানো প্রয়োজন।

এসটিএমের ভাষ্য, বিশেষায়িত অভিবাসনসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে যুক্ত অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্মীদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেশাগত মর্যাদা ও বেতন পাওয়া উচিত।

এ ছাড়া অভিবাসীদের সহায়তার জন্য স্থানীয় কেন্দ্রগুলোতে (সিএলএআইএম) রাষ্ট্রের স্থায়ী কিছু দায়িত্ব ক্রমেই হস্তান্তর করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে ইউনিয়নটি।

এসটিএম এসব কেন্দ্রের দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ এবং আইমার মূল দায়িত্বগুলো সংস্থাটির হাতেই রাখার দাবি জানিয়েছে।

ইউনিয়নটির দাবি, আইমার ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়ায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে, অনেক সিদ্ধান্ত যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে এবং আইনি জটিলতা বাড়ছে। এর ফলে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা এবং কর্মীদের ওপর চাপও বেড়েছে।

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিবাসন কর্মকর্তাদের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রাথমিক প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং অভিবাসন বিষয়ে অভিজ্ঞ নতুন আইমা প্রেসিডেন্ট দ্রুত নিয়োগ।

এসটিএমের নেত্রী মানুয়েলা নিজা রিবেইরো বলেন, ইউনিয়নটি সরকারের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা সমান আচরণ চাই। আমরা বৈঠকের অনুরোধ করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি।’

আজকের ধর্মঘটের কারণে পর্তুগালজুড়ে আইমার বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version