পর্তুগালের ঐতিহাসিক ২৫শে এপ্রিল বা ‘কার্নেশন বিপ্লব’-এর ৫২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তরুণদের সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আন্তোনিও হোসে সেগুরো। দিবসটি উদযাপনে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি বেলেম প্রাসাদের উদ্যান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে সেখানে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে ২৫ জন তরুণ-তরুণীর মুখোমুখি হন তিনি। এসময় সেগুরো জোর দিয়ে বলেন, পর্তুগালের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে হলে প্রচলিত রাজনীতির ধারা পাল্টাতে হবে এবং এর জন্য তরুণদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বর্তমান গণতন্ত্রের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও তরুণদের রাজনৈতিক ঝোঁক নিয়ে বেশ কিছু তীক্ষ্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। অংশগ্রহণকারী একজন তরুণ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পর্তুগালের বর্তমান প্রজন্ম ইতিহাসের সবচেয়ে শিক্ষিত প্রজন্ম হওয়া সত্ত্বেও গত নির্বাচনে কেন ২৭ শতাংশ তরুণ চরমপন্থীদের ভোট দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। অন্যদিকে, সমাজে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং অপতথ্যের ভয়ংকর বিস্তারকে গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন আরেক তরুণী। তরুণদের এসব ভাবনার জবাবে সেগুরো বলেন, রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া মানে কেবল পদ পাওয়া নয়, বরং দেশকে পরিবর্তনের জন্য নিজেদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি এদিন অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি সেরিব্রাল পালসি অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশনের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সংস্থাটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ‘প্রবেশযোগ্য ভোটাধিকার’ নিশ্চিত করার একটি প্রকল্প উপস্থাপন করে। সংগীত ও কবিতার মূর্ছনায় মুখরিত বেলেম প্রাসাদের এই অনুষ্ঠানটি কেবল উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পর্তুগালের আগামীর গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
তথ্যসূত্র: সিস নোটিসিয়াস
