আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ২০, ২১ ও ২২ নভেম্বর একযোগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ইউরোপের সাত দেশের শ্রমিক ইউনিয়ন ও ভাড়াটিয়াদের সংগঠনগুলো। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, গ্রিস, ইতালি ও যুক্তরাজ্য।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের দাবিকে সামনে রেখে তিনটি প্রধান বিষয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনগুলো। এগুলো হলো—আবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, মজুরি ও পেনশন বৃদ্ধি এবং ইউরোপে সামরিক অস্ত্রসজ্জার ব্যয় বৃদ্ধি বন্ধ করা।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় ভাড়াটিয়া ইউনিয়নগুলোর কনফেডারেশনের উদ্যোগে প্যারিসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রান্সে ৫ নভেম্বর নির্ধারিত জাতীয় ধর্মঘটের দুই দিন আগে এ বৈঠক হয়।লিসবন রেসিডেন্টস ইউনিয়নের তেরেসা মামেদে পর্তুগিজ সংবাদ সংস্থা লুসাকে বলেন, শ্রমিক ইউনিয়ন, শিক্ষার্থী, আবাসন অধিকার ও জলবায়ু ন্যায়বিচার আন্দোলনের সংগঠনগুলো যৌথভাবে এ সমন্বিত কর্মসূচি অনুমোদন করেছে।
পর্তুগালের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেয় লিসবন রেসিডেন্টস ইউনিয়ন, ক্লিমাক্সিমো এবং স্টুডেন্টস ফর অ্যান এন্ড টু ফসিল ফুয়েলস। দেশটির কোনো আনুষ্ঠানিক শ্রমিক ইউনিয়ন এ বৈঠকে অংশ নেয়নি। লিসবন রেসিডেন্টস ইউনিয়নের নামে ইউনিয়ন থাকলেও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শ্রমিক ইউনিয়ন নয়।
মামেদে বলেন, ‘বৈঠকটি বেশ আকর্ষণীয় ছিল। কারণ, কয়েকটি দেশের বড় বড় আন্দোলন এবং তাদের নিজস্ব লড়াইয়ের বিষয়গুলো সেখানে উঠে এসেছে।’তিনি জানান, আগামী তিন দিন বিভিন্ন দেশে সমন্বিত কর্মসূচি পালনের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। এতে ফ্রান্সের জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার (সিজিটি), দেশটির ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ইউনিয়নও যুক্ত হয়েছে।
পর্তুগালে ২০ থেকে ২২ নভেম্বরের মধ্যে কয়েকটি ধর্মঘটের কর্মসূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে নতুন এই উদ্যোগের ফলে আন্দোলনের পরিসর অনেক বেড়েছে বলে জানান মামেদে।লুসার হাতে আসা যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। আবাসন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে। সরকারি ঋণদাতাদের শর্ত এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতার কারণে ইউরোপে আবারও কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া খাদ্য ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ, সবার জন্য মানসম্মত সরকারি সেবা নিশ্চিত, কাজের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ধনীদের ওপর কর বাড়ানো এবং সামরিক অস্ত্রসজ্জা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।বিবৃতিতে তাঁরা সংহতিকে দৈনন্দিন চর্চা ও সংগঠিত আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।
এদিকে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর গত রাতের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের পর দেশটির রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলছে। ভাষণে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব ছিল বলে মনে করছেন অনেকেই।
কোরেইও দা মানহার সম্পাদকীয় পরিচালক কার্লোস রদ্রিগেস এক সমালোচনামূলক কলামে লিখেছেন, ‘লুইস মন্টেনেগ্রো খালি হাতে জাতির উদ্দেশে কথা বলেছেন।’ নিজ দলেও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং মন্ত্রীদের মধ্যে কৌশল ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এখন আবাসন সংকট মোকাবিলায় প্রস্তাবিত পদক্ষেপ নিয়ে আগামীকাল চেগা ও সোশ্যালিস্ট পার্টির (পিএস) সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে। এসব দলের প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
