বৃহস্পতিবার, ৫ই মার্চ, ২০২৬   |   ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা মোকাবিলায় পর্তুগালের সক্ষমতা সীমিত।

বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আজোরেস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত লাজেস বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করে। আটলান্টিক অঞ্চলে ট্রান্সআটলান্টিক সামরিক অভিযানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি পর্তুগালের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্তুগালের কাছে স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যেমন স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্র। এই ধরনের অস্ত্র নিম্ন উচ্চতায় উড়তে থাকা হেলিকপ্টার, বিমান ও ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম। তবে দেশটির কাছে মাঝারি বা দীর্ঘপাল্লার এমন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নেই, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা দূরপাল্লার আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। ফলে বড় ধরনের হামলার ক্ষেত্রে পর্তুগালকে আকাশসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও বিমানবাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভর করতে হবে। সমুদ্রপথে পর্তুগালের ফ্রিগেট জাহাজগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান থাকলেও সেগুলো মূলত জাহাজ সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। দেশের ভূখণ্ডে আক্রমণ হলে সেগুলোর কার্যকারিতা সীমিত।

পর্তুগালের সাবেক সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল হোসে নুনেস দা ফনসেকা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পর্তুগালের সামরিক ব্যবস্থার অন্যতম দুর্বলতা হলো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভাব। তার মতে, নিম্ন উচ্চতায় প্রতিরক্ষার কিছু সক্ষমতা থাকলেও মাঝারি বা উচ্চ উচ্চতায় পরিচালিত হামলার ক্ষেত্রে দেশটি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

পর্তুগালের সামরিক আধুনিকীকরণের জন্য মিলিটারি প্রোগ্রামিং আইন অনুযায়ী প্রায় ৫.৫৭ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন গবেষণা বলছে, বাস্তব চাহিদা পূরণে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

তবে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পর্তুগাল ন্যাটো জোটের অংশ হওয়ায় কিছু নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছে। ন্যাটোর সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউরোপজুড়ে রাডার, যুদ্ধজাহাজ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে আজোরেসের লাজেস ঘাঁটিতে কোনো হামলা হলে সেটিকে পুরো ন্যাটো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সে ক্ষেত্রে জোটভুক্ত দেশগুলো সম্মিলিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version