পর্তুগালের সরকার লিসবনের নতুন লুইস দে কামোয়েস বিমানবন্দর নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগে, ২০৩৪ সালে চালু করতে চায়। বিমানবন্দরটির অপারেটর এএনএ বর্তমানে ২০৩৫ বা ২০৩৬ সালে এটি চালুর কথা ভাবছে।
লিসবনে আয়োজিত অষ্টম পর্তুগিজ ট্যুরিজম সামিটে দেশটির অবকাঠামোমন্ত্রী মিগেল পিন্তু লুজ সরকারের এই লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালে নতুন বিমানবন্দরে প্রথম উড়োজাহাজ অবতরণ নিশ্চিত করতে এএনএ অ্যারোপোর্তোসকে ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টা’ চালানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
এএনএর চেয়ারম্যান হোসে লুইস আরনাউত বলেন, সরকারের এই লক্ষ্যকে তারা সমর্থন করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে বিমানবন্দর চালু করতে হলে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সংস্থাকেও তাদের কাজের গতি বাড়াতে হবে।
এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে পর্তুগিজ এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি (এপিএ), ইনস্টিটিউট ফর নেচার কনজারভেশন অ্যান্ড ফরেস্টস (আইসিএনএফ) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়। আরনাউত বলেন, এসব সংস্থা যদি তাদের মূল্যায়নের সময় কমিয়ে আনতে পারে এবং ‘আইনের মধ্যে থেকে সময়সীমা সহজতর’ করে, তাহলে নির্মাণকাজও আগেই শুরু করা সম্ভব।
তবে ২০৩৪ সাল এখনো সরকারের একটি লক্ষ্য, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। প্রকল্পটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এখনো শেষ করা বাকি।
এএনএ আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে জমা দেওয়া হবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন।
মন্ত্রী পিন্তু লুজ বলেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তাঁর ভাষায়, ‘২০২৮ সালের প্রথম প্রান্তিকের শেষে আমরা এএনএকে আমন্ত্রণ জানাব কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব এবং নির্মাণকাজ শুরু করব।’
তবে বিমানবন্দরটির চূড়ান্ত নির্মাণ ব্যয় এখনো নির্ধারিত হয়নি। প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবে গত জুলাইয়ে এএনএ নির্মাণ ব্যয় ৭৯০ কোটি থেকে ৮৯০ কোটি ইউরো হতে পারে বলে জানিয়েছিল।
পিন্তু লুজ আবারও জানিয়েছেন, প্রকল্পটি পুরোপুরি বেসরকারি বিনিয়োগে অর্থায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘এটি ১০০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগে হবে। এই অর্থায়ন মডেল থেকে আমরা সরে আসব না।’
ফরাসি অবকাঠামো কোম্পানি ভিঞ্চির মালিকানাধীন এএনএ বর্তমানে ২০৬২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকা বিমানবন্দর পরিচালনার ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ানোর আগ্রহও দেখিয়েছে।
এএনএর চেয়ারম্যান আরনাউত বলেন, দীর্ঘ মেয়াদের ছাড়পত্র হলে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণে এএনএর বড় অঙ্কের অগ্রিম বিনিয়োগের চাপ সামলানো সহজ হবে। বিমানবন্দরটি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের মালিকানায় ফিরে যাবে।
পর্তুগালের পর্যটন খাতের জন্য প্রকল্পটির সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির পর্যটন শিল্প দীর্ঘদিন ধরে লিসবনের হুমবের্তো দেলগাদো বিমানবন্দরের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে আরও প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হিসেবে তুলে ধরছে।
টিএপি এয়ার পর্তুগালের চেয়ারম্যান কার্লোস অলিভেইরা বলেন, ২০২৮ সালের শুরুতে এএনএর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নতুন বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে নিজেদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম।
সব মিলিয়ে ২০৩৪ সাল এখনো একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। অনুমোদন, অর্থায়ন ও নির্মাণকাজ—সবগুলো ধাপ দ্রুত এগিয়ে নিতে পারলেই নির্ধারিত সময়ের আগে লিসবনের নতুন বিমানবন্দর চালু করা সম্ভব হবে।
