পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে শেয়ার করা ইলেকট্রিক স্কুটার চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন শহরটির মেয়র কার্লোস মোয়েদাস। সড়কে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, স্কুটার চালকদের বিপজ্জনক আচরণ এবং জনপরিসরে যত্রতত্র স্কুটার ফেলে রাখার কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ ঘোষণা দেন মোয়েদাস। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাটি কাজ করছে না। পথচারীসহ সড়কের অন্য ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মেয়র বলেন, ‘যা ঘটছে, তা লজ্জাজনক। এর অবসান ঘটানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, যানবাহনের বিপরীত দিকে স্কুটার চালানো, বিপজ্জনকভাবে চলাচল, দুর্ঘটনা বৃদ্ধি এবং জনপরিসরে চলাচলের পথ আটকে স্কুটার ফেলে রাখার ঘটনা বাড়ছে।
মোয়েদাসের তথ্যমতে, প্রতি মাসে লিসবনের সড়ক থেকে ১ হাজার ২০০টিরও বেশি পরিত্যক্ত বা ভুলভাবে পার্ক করা স্কুটার সরিয়ে নেওয়া হয়।
শহরের প্রত্যেকের নিরাপদে চলাচলের অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বর্তমান শেয়ারড স্কুটার ব্যবস্থা আর এভাবে চলতে পারে না।
তবে স্কুটার চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত কবে থেকে কার্যকর হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি। অপারেটরদের আগামী ৬০ দিনের মধ্যে লিসবনের সড়ক থেকে তাদের শেয়ারড ইলেকট্রিক স্কুটার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাড়ছে স্কুটার দুর্ঘটনা
পর্তুগালে ইলেকট্রিক স্কুটার দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এল।
অটোমোবাইল ক্লাব অব পর্তুগালের (এসিপি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে স্কুটার-সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ৫৮ জন এবং প্রাণ হারান তিনজন।
২০২৫ সালেও দুর্ঘটনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ওই বছরের প্রথম চার মাসেই ৬২৩টি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়।এরপর গত সেপ্টেম্বরে উত্তর পর্তুগালের লুসাদায় ইলেকট্রিক স্কুটার-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়।
এসিপির তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালের পুলিশ বাহিনী পিএসপি ও জিএনআরের উপাত্তের ভিত্তিতে স্কুটার-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনার সংখ্যার দিক থেকে লিসবনের পাশাপাশি ফারো, পোর্তো ও সেতুবাল জেলাকেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।
লিসবনের পর্যটন এলাকা ও নগরকেন্দ্রে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য শেয়ারড ইলেকট্রিক স্কুটার বেশ জনপ্রিয়। তবে বেপরোয়া চালানো, ফুটপাত আটকে রাখা এবং অনুপযুক্ত স্থানে স্কুটার ফেলে রাখার ঘটনা নিয়ে অভিযোগ বাড়ছে। এতে পথচারীদের নিরাপত্তা ও জনপরিসরের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মোয়েদাসের এ ঘোষণা লিসবনে শেয়ারড মাইক্রোমোবিলিটি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের বিস্তারিত পদ্ধতি এখনো জানানো হয়নি।
এর আগে গত জুনে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পর্তুগালের ব্রাগা পৌরসভাও পুরো এলাকায় শেয়ারড ইলেকট্রিক স্কুটার পরিষেবা স্থগিতের নির্দেশ দেয়। সে সময় অপারেটরদের ৬০ দিনের মধ্যে তাদের স্কুটার সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।
তবে স্কুটার পরিষেবা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এর আগে তাদের কার্যক্রমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত আগস্টে বোল্ট, লাইম ও বার্ড বার্তা সংস্থা লুসাকে জানায়, তারা নিয়মিতভাবে পৌরসভার বিধিবিধানের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম সমন্বয় করেছে এবং ভুলভাবে পার্কিংয়ের সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তি, স্কুটার পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে উন্নত অবকাঠামো, আইন প্রয়োগ এবং নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তার উদ্বেগ মোকাবিলা করা উচিত।
