পর্তুগালের পার্লামেন্টে এক নজিরবিহীন ও ‘ঐতিহাসিক’ ভোটাভুটির মাধ্যমে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত অভিবাসী নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলের কঠোর বিল অনুমোদিত হয়েছে। দেশটির ডানপন্থী, কেন্দ্র-ডানপন্থী এবং লিবারেল দলগুলোর শক্তিশালী জোটের ১৫১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থনে এই অভিবাসন সংস্কার বিলটি পাস হয়।
নতুন এই আইন অনুযায়ী, পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পাওয়ার পরবর্তী ১৫ বছরের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি হত্যা, মানব পাচার, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধের মতো গুরুতর ঘটনায় ৫ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে তাঁর নাগরিকত্ব সরাসরি বাতিল করা হবে। এমনকি সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা অপরাধী চক্রের হোতা হিসেবে শনাক্ত হলেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১০ থেকে ২৫ বছর পর পুনরায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের একটি দীর্ঘসূত্রি সুযোগ রাখা হয়েছে।
পার্লামেন্টে ২১৬ জন সদস্যের মধ্যে এডি সরকারের শরিক দলগুলো এবং উগ্র ডানপন্থী দল ‘শেগা’ একজোট হয়ে বিলটি পাস করিয়ে নিয়েছে, যা দেশটিতে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও সাংবিধানিক আদালত আগে জানিয়েছিল যে, কেবল নতুন নাগরিকদের জন্য এই দণ্ড কার্যকর করা বৈষম্যমূলক ও ‘সমতার নীতি’র পরিপন্থী হতে পারে, কিন্তু সেই আপত্তিকে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ জানিয়েই বিলটি এগিয়ে নিয়েছে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ।
বিরোধী দলগুলো এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করলেও বর্তমান সরকার তাদের অবস্থানে অনড়। এখন বিলটি চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও হোসে সেগুরোর কাছে পাঠানো হবে। প্রেসিডেন্ট চাইলে এটি অনুমোদন করতে পারেন, ভেটো দিতে পারেন অথবা পুনরায় সাংবিধানিক পর্যালোচনার জন্য পাঠাতে পারেন। ফলে পর্তুগালে বসবাসরত অভিবাসীদের ভাগ্য এখন পুরোপুরি প্রেসিডেন্টের কলমের ওপর ঝুলে আছে।
