পর্তুগালের যানবাহন চালকদের জন্য আগামী সপ্তাহে আসতে যাচ্ছে এক বড় সুখবর। দেশটির জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে ডিজেল এবং পেট্রোল—উভয় জ্বালানির দামই এক ধাক্কায় অনেকটা কমতে যাচ্ছে।
পর্তুগালের অটোমোবাইল ক্লাব (এসিপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট থেকে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর অধীনে প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ১২ সেন্ট এবং পেট্রোলে প্রায় ১২.৫ সেন্ট (১০০ সেন্টে ১ ইউরো) দাম কমতে পারে।
আগামী সপ্তাহের এই পূর্বাভাস সত্যি হলে, প্রতি লিটার ডিজেলের গড় দাম কমে দাঁড়াবে ১.৯৩১ ইউরোতে এবং পেট্রোলের দাম কমে প্রতি লিটার ১.৮৫৫ ইউরোতে নেমে আসবে।
তবে এসিপি উল্লেখ করেছে যে, এই দামগুলোতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ ‘এই পূর্বাভাসটি মূলত গত বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের সময় অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দামের ওপর ভিত্তি করে গড় হিসাব করে তৈরি করা হয়েছে’। অর্থাৎ, ‘যদি এই শুক্রবারের শেষ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানির দামে কোনো ওঠানামা হয়, তবে বর্তমানে পূর্বাভাসের তুলনায় তেলের মূল দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে।’
ডিরেক্টরেট-জেনারেল ফর এনার্জি অ্যান্ড জিওলজি (ডিজিইজি)-এর প্রকাশিত গড় মূল্য অনুযায়ী, এই শুক্রবার সাধারণ ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ২.০৫১ ইউরো এবং ৯৫-অক্টেন আনলেডেড পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১.৯৮০ ইউরোতে রয়েছে।
একই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই দৈনিক গড় দামগুলো মূলত ‘ফিলিং স্টেশনগুলোর জানানো দামের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে বিক্রি হওয়া জ্বালানির পরিমাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতে ফ্লিট কার্ড ও অন্যান্য ডিসকাউন্ট বা ছাড়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে।’
অবশ্য খুচরা গ্রাহকদের জন্য এই জ্বালানির দাম পাম্পভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে; কারণ এই খাত এবং এর মূল্য নির্ধারণের নীতিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বা উদারীকৃত।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরান এই অঞ্চলে সামরিক হামলায় জড়িয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধের ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে হরমুজ প্রণালী, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই অস্থিতিশীলতাই জ্বালানির দামে বড় ধরনের ওঠানামা সৃষ্টি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, পর্তুগাল সরকার যখনই জ্বালানির দাম ১০ সেন্টের বেশি বৃদ্ধি পায়, তখনই সাধারণ মানুষের ওপর থেকে বাড়তি দামের চাপ কমাতে আইএসপি জ্বালানি কর সাময়িকভাবে হ্রাস করার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তাই ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মতোই আগামী সোমবার থেকে সরকার আইএসপি ডিসকাউন্ট বা ছাড়ের হার সমন্বয় করতে পারে, যার ফলে আগামী সোমবার থেকে আনুমানিক এই মূল্যে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
