পর্তুগালের লিসবন ও পোর্তোতে আবাসন অধিকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের তাঁবু গুঁড়িয়ে দিয়ে তাঁদের উচ্ছেদ করেছে পুলিশ। স্পেনের প্রতিবেশী দেশের এই আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিক্ষোভকারীরা বিগত কয়েক দিন ধরে লিসবন ও পোর্তোর শহরের কেন্দ্রস্থলে তাঁবু গেড়ে আবাসন সংকটের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টার ঠিক আগে লিসবনের রোসিও স্কোয়ার এবং পোর্তোর প্রাসা দোঁ জোয়াও ওয়ান-এ পুলিশ ভ্যান এসে উপস্থিত হয় এবং বিক্ষোভকারীদের ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে আন্দোলন গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পুলিশ জানায়, এই জমায়েত আর আইনসম্মত নয়।
রাজধানী লিসবনে পুলিশি এই আদেশের তীব্র বিরোধিতা করে বিক্ষোভকারীরা মানববলয় তৈরি করেন। এ সময় জনতা পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ (পিএসপি)-এর কর্মকর্তাদের ওপর বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করলে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে। পিএসপির স্পেশাল ইউনিট শক্তি প্রয়োগ করে রোসিও স্কোয়ার থেকে সব বিক্ষোভকারীকে হটিয়ে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ২২৮টি তাঁবু বা অস্থায়ী কাঠামো জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের দাবি, সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী আহত ও আটক হয়েছেন।
লিসবনের কিছু বিক্ষোভকারী পরে প্রাসা দা ফিগেইরায় চলে যান, যেখানে তাঁরা পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান এবং নিজেদের আটক সহকর্মীদের মুক্তি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় শতাধিক বিক্ষোভকারী ১৯৭৪ সালের ২৫ এপ্রিলের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বিখ্যাত গান ‘গ্রান্দোলা, ভিলা মোরেনা’ (Grândola, Vila Morena) গেয়ে প্রতিবাদ জানান এবং প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রোর বাসভবন দখলের হুমকি দেন।
অন্যদিকে পোর্তোর প্রাসা দোঁ জোয়াও ওয়ান-এ অভিযানটি অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। সেখানে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি এবং তাঁবু গেড়ে থাকা লোকজন স্বেচ্ছায় এলাকা ছেড়ে চলে যান। পুলিশ কাছে আসার পর সামান্য প্রাথমিক প্রতিরোধ দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা নির্দেশ মেনে নেন। বিক্ষোভকারীরা ওই চত্বরে পুনরায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করায় পুলিশ সেখানে যাতায়াত বন্ধ করতে ধাতব ব্যারিকেড বসাতে শুরু করেছে।
লিসবন ও পোর্তোর স্কোয়ারগুলো ফাঁকা করে দেওয়ার পর সেখানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের আইনজীবী পর্তুগিজ দৈনিক ‘অবজার্ভার’-কে জানিয়েছেন যে, তাঁরা বিক্ষোভস্থল ছাড়বেন না এবং আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন। আটক ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা কেমন আছে এবং তাঁদের জিনিসপত্র কীভাবে ফেরত পাওয়া যাবে, তা জানার জন্য আপাতত অপেক্ষা করার কথা জানান তিনি। পপুলার অ্যাসেম্বলির এক সর্বসম্মত ভোটাভুটিতে আটক সহকর্মীদের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত প্রাসা দা ফিগেইরাতেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্দোলনকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের যত দ্রুত সম্ভব উপযুক্ত বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হবে।
এদিকে মঙ্গলবারের এই সংঘাতের পরও থেমে নেই আন্দোলন। ওই দিনই স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে লিসবনের রোসিও স্কোয়ারে নতুন আরেকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পপুলার অ্যাসেম্বলির সংগঠকেরা আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি মানুষকে এই আন্দোলনে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশি অভিযানের মুখেও আন্দোলনকারীরা দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, দেশের প্রতিটি সদস্যের জন্য স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।
