ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার নীতির আওতায় নির্ধারিত আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পর্তুগাল। এর পরিবর্তে দেশটি ইউরোপীয় কমিশনকে ৮৪ লাখ ইউরো পরিশোধে সম্মত হয়েছে। এই অর্থ ইইউর অভিবাসন-সংক্রান্ত ‘সংহতিপ্রক্রিয়া’-এর অংশ হিসেবে প্রদান করা হবে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম অবজারভাদর ও এসআইসি নোতিসিয়াস জানিয়েছে…
আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণের পরিবর্তে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ইইউর অভিবাসন সংহতি ব্যবস্থায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লিসবন সরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্তুগাল সরকার দাবি করেছে, দেশটির বর্তমান আবাসন, প্রশাসনিক কাঠামো ও আশ্রয় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বিবেচনায় ৪২০ জন নতুন আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ করলে পুরো ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সরকারের মতে, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা সীমিত, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণে জনবল সংকট রয়েছে এবং আবাসন সংকট ইতোমধ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই অভিবাসী গ্রহণের পরিবর্তে অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইইউভুক্ত ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র ২০২৬ সালে মোট ২১ হাজার ৯ জন আশ্রয়প্রার্থী পুনর্বণ্টনে সম্মত হয়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্তুগালের নেওয়ার কথা ছিল মোট সংখ্যার ২ শতাংশ, অর্থাৎ ৪২০ জন আশ্রয়প্রার্থী। তবে পর্তুগাল সরকার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিকল্প হিসেবে আর্থিক অবদান রাখার পথ বেছে নেয়।
পর্তুগাল আগামী জুন মাস থেকে ইউরোপীয় কমিশনকে অর্থ পরিশোধ শুরু করবে। এই অর্থ জমা হবে ইইউর সংহতি তহবিলে, যা ইতালি, গ্রিস ও স্পেনের মতো অভিবাসন চাপে থাকা দেশগুলোকে আশ্রয় ব্যবস্থা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।
পর্তুগালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাঁও আমারো ইইউর নির্ধারিত হিসাব ও কোটা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তিনি ব্রাসেলসকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ জানিয়েছেন। তার মতে..
অভিবাসন গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু জনসংখ্যা নয়, বরং বাস্তব অবকাঠামো, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সামাজিক ও আবাসন পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, পর্তুগালের পরিস্থিতি বর্তমানে পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। দেশটিকে সংহতি প্রক্রিয়া থেকে পূর্ণ বা আংশিক অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, পর্তুগালের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ইস্যুতে চলমান বিভাজনকে আবারও সামনে এনেছে। একদিকে কিছু দেশ সরাসরি আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণে অনিচ্ছুক, অন্যদিকে অভিবাসন চাপ সামলাতে থাকা সীমান্তবর্তী দেশগুলো আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইইউর নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি বাস্তবায়ন যে সহজ হবে না, পর্তুগালের অবস্থান তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
