পর্তুগালে শক্তিশালী ঝড়েরঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে বহু এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং যান চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার তথ্যমতে, ঝড়ের প্রভাবে প্রায় আটলাখের বেশি গ্রাহক সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি সেবা বিভাগ রাতভর উদ্ধার ও মেরামতকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশটির নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে দেড়হাজারের বেশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। লিসবনের পার্শ্ববর্তী ভিলা ফ্রাঙ্কা দে জিরা এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন শহরে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যাওয়ায়, সড়কে যানবাহন আটকে পড়ে এবং কিছু এলাকায় বন্যার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঝড়ের সময় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় একশ চল্লিশ কিলোমিটার পর্যন্ত। উপকূলীয় এলাকায় সাগর ছিল উত্তাল, ফলে নৌ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। রেল ও বিমান চলাচলেও বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং দুর্বল স্থাপনা ও উপকূলীয় এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
আজ দুপুরের পর থেকে কিছু এলাকায় আবহাওয়ার উন্নতি হতে শুরু করলেও পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
