পর্তুগালে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনায় ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২০ হাজার গাড়ি কেনায় সহায়তা দেওয়া হবে। গাড়ির দামের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি পাওয়া যেতে পারে।
২০২৭ সালের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় বাজেট নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্কের দ্বিতীয় দিনে এ ঘোষণা দেন দেশটির পরিবেশ ও জ্বালানিমন্ত্রী মারিয়া দা গ্রাসা কারভালহো। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনায় প্রণোদনাও অব্যাহত রাখা হবে। আগের মতো নিয়ম থাকলেও এ খাতে বরাদ্দ থাকবে ৫ কোটি ইউরো।
এর আগে গত জুনে বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনায় সহায়তার জন্য ১ কোটি ইউরোর নতুন কর্মসূচি চালু করেছিল সরকার। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই তহবিলের পুরো অর্থ বরাদ্দ হয়ে যায়।
পরিবেশ তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ির পরিবর্তে শূন্য-নির্গমনকারী গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহিত করা। এটি সরকারের গ্রিন মোবিলিটি প্যাকেজের অংশ।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বাড়িঘর সংস্কার, বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নতুন দফার প্রণোদনাও চালু করা হবে। ২০৩২ সালের মধ্যে এ কর্মসূচির আওতায় ৫০ হাজারের বেশি বাড়িতে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ৯ হাজার বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনায় সহায়তা দেবে সরকার। ভারী যানবাহনকে আরও পরিবেশবান্ধব করা এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণেও সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে।
কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ৭০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনায় যৌথ অর্থায়ন করবে সরকার। এসব বাসের মাধ্যমে ওই অঞ্চলগুলোর কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।
শিল্প খাতের কার্বন নিঃসরণ কমাতেও নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর বেশি নির্ভরশীল সিরামিক ও কাচশিল্পের মতো খাতগুলোর নিঃসরণ কমাতে ১০ কোটি ইউরোর একটি কর্মসূচি চালু করা হবে।
এ ছাড়া বাঁধ পরিচালনার নতুন দফার ইজারা থেকে পাওয়া ভবিষ্যৎ আয়ের একটি অংশ পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ব্যয় করা হবে। এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্বাসন এবং নদী-নালাসহ জলপ্রবাহের বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে।
