পর্তুগাল সরকার পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আয়কর কমানো, পেনশনভোগীদের বিশেষ ভাতা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর জন্য সহায়তা এবং সবুজ রেল পাসের আওতা বাড়ানো।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এসব পদক্ষেপ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রু। তবে এর বেশিরভাগই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঘোষণা করা হয়েছিল।
আয়কর কমছে
প্রথম ছয়টি আয়কর স্তরে করহার ০.৩ থেকে ০.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমাবে সরকার। এতে রাষ্ট্রের প্রায় ৪০ কোটি ইউরো ব্যয় হবে। নভেম্বর থেকে কর্মীদের বেতনে এর প্রভাব পড়বে।
নতুন হারে প্রথম স্তরের কর ১২.৫ শতাংশ থেকে কমে ১২.২ শতাংশ হবে। দ্বিতীয় স্তরে ১৫.৭ শতাংশ থেকে কমে ১৫.২ শতাংশ হবে।
তৃতীয় স্তরে করহার ২১.২ শতাংশ থেকে ২০.২ শতাংশ, চতুর্থ স্তরে ২৪.১ শতাংশ থেকে ২৩.৬ শতাংশ, পঞ্চম স্তরে ৩১.১ শতাংশ থেকে ৩০.৬ শতাংশ এবং ষষ্ঠ স্তরে ৩৪.৯ শতাংশ থেকে ৩৪.৬ শতাংশ হবে।
পেনশনভোগীদের বিশেষ ভাতা
ডিসেম্বরে প্রায় ২০ লাখ পেনশনভোগী নিয়মিত পেনশনের সঙ্গে বিশেষ ভাতা পাবেন।
যারা সর্বোচ্চ ৫৩৭.১৩ ইউরো পেনশন পান, তারা ২০০ ইউরো পাবেন। ৫৩৭.১৩ থেকে ১ হাজার ৭৪.২৬ ইউরো পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা পাবেন ১৫০ ইউরো। আর ১ হাজার ৭৪.২৬ থেকে ১ হাজার ৬১১.১৩ ইউরো পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা পাবেন ১০০ ইউরো।
১ হাজার ৬১১.১৩ ইউরোর বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা এই সুবিধা পাবেন না।
এতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ কোটি ইউরো ব্যয় হবে। টানা তৃতীয় বছরের মতো এবারও একই ধরনের বিশেষ ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
সবুজ রেল পাসের আওতা বাড়ছে
লিসবন ও পোর্তোর নগর রেলসেবাসহ ফার্টাগুস রেলসেবাকে সবুজ রেল পাসের আওতায় আনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
এই পাসের মাসিক মূল্য ২০ ইউরো। এর মাধ্যমে আলফা পেন্ডুলার সেবা ছাড়া পুরো দেশের রেল নেটওয়ার্কে যাতায়াত করা যায়।
তবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা গতিশীলতা সপ্তাহের সঙ্গে এই সুবিধা চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
জ্বালানিতে ক্ষতিগ্রস্ত খাতে সহায়তা
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে। এর আওতায় থাকবে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান, ট্যাক্সি, বেসরকারি সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী সংগঠনগুলো।
কৃষি ডিজেলে সহায়তা
গত সপ্তাহে সরকার রঙিন ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেলের জন্য প্রতি লিটারে ০.১০ ইউরোর বিশেষ সহায়তা বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে বছরের শেষ পর্যন্ত জ্বালানি করের ছাড়ের ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে।
মন্তেনেগ্রু বলেন, বর্তমানে কার্যকর করসংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোর ফলে প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ০.২৩ ইউরো সাশ্রয় হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ডিজেলের দাম ০.১০ ইউরো এবং পেট্রলের দাম ০.০৮ ইউরো বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রতি লিটারে ০.২৫ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
সরকারের হিসাবে, এখন পর্যন্ত অনুমোদিত এসব পদক্ষেপ এবং এর আগে চালু করা সহায়তা মিলিয়ে করদাতাদের প্রায় ২৩০ কোটি ইউরো ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
‘নিলাম’ নিয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী
ইসিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আরও পদক্ষেপ নেওয়ার দাবির প্রসঙ্গে মন্তেনেগ্রু ‘বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের নিলাম’ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সোশ্যালিস্ট পার্টির (পিএস) অনুরোধে সংসদে বিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে খাদ্যপণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর শূন্য করার দাবি জানিয়েছে পিএস ও চেগা। ২০২২ সালে মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
মন্তেনেগ্রু খাদ্যপণ্যের মূল্য সংযোজন কর শূন্য করার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে ইতোমধ্যে যে ৮০ কোটি ইউরো ফেরত দেওয়া হচ্ছে, সেটি নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্যে শূন্য করহার চালুর বিনিময়ে বাতিল করা হবে না।
পর্তুগালের আর্থিক সংকট ও ট্রয়কার হস্তক্ষেপের সময়কার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেন, দেশের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা না করে নেওয়া পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বড় ত্যাগের কারণ হতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার এমন কোনো পদক্ষেপকে সমর্থন করবে না, যা সাময়িক স্বস্তি দিলেও ভবিষ্যতে পর্তুগালের জন্য আরও বেশি ব্যয়ের বোঝা তৈরি করবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।
