বিদেশে বসবাস করলেও পর্তুগালে প্রথম বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে করছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন ৩৫ বছর বা তার কম বয়সী তরুণেরা। তবে এ জন্য বাড়ি কেনার ছয় মাসের মধ্যে সেটিকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার শুরু করতে হবে। শর্ত পূরণ না হলে করছাড়ের সুবিধা বাতিল হতে পারে।
পর্তুগালের সম্পত্তি হস্তান্তর কর (আইএমটি) ও স্ট্যাম্প ডিউটিতে এ ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। অন্য কোনো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে কর-নিবাসী হলেও শুধু এ কারণে কেউ সুবিধা পাওয়ার অযোগ্য হবেন না। তবে তাঁকে করছাড় পাওয়ার অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
স্পেনের মাদ্রিদে বসবাস ও কর্মরত এক পর্তুগিজ নাগরিকের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। ৩৫ বছরের কম বয়সী ওই ব্যক্তি প্রায় প্রতি সপ্তাহান্তে পর্তুগালে যাতায়াত করেন। স্পেনে কর-নিবাসী হওয়ায় পর্তুগালে প্রথম বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে করছাড় পাবেন কি না, তা জানতে তিনি এসআইসি ভেরিফিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অর্থমন্ত্রী দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাড়ি কেনার সময় বিদেশে কর-নিবাসী হওয়া করছাড় পাওয়ার পথে বাধা নয়। তবে ক্রেতাকে পর্তুগালের বাড়িটিকে নিজের প্রকৃত ও স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
ছয় মাসের মধ্যে স্থায়ী বাসস্থান
পর্তুগালের নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ি কেনার ছয় মাসের মধ্যে সেটিকে নিজের ‘হাবিতাসাও প্রোপ্রিয়া ই পারমানেন্তে’ বা নিজস্ব স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু পর্তুগালে বাড়ির মালিক হওয়া কিংবা নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করা এ শর্ত পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।
মাদ্রিদে বসবাসকারী ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, সপ্তাহান্তে পর্তুগালে গেলেও তিনি যদি স্থায়ীভাবে স্পেনেই বসবাস করেন, তাহলে শুধু এ কারণে করছাড় পাওয়ার শর্ত পূরণ হবে না। তাঁকে পর্তুগালে ফিরে গিয়ে কেনা বাড়িটিকে নিজের প্রধান বাসস্থান করতে হবে।
দেশটির কর ও শুল্ক কর্তৃপক্ষ (এটি) প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করে। সাধারণত একজন ব্যক্তির কর-ঠিকানা তাঁর নিয়মিত বসবাসের স্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু পর্তুগিজ নাগরিকত্ব কিংবা ঘন ঘন পর্তুগাল ভ্রমণের ভিত্তিতে করছাড় পাওয়ার যোগ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
করছাড় পাওয়ার শর্ত
তরুণদের প্রথম বাড়ি কেনায় সহায়তা করতে ২০২৪ সালের আগস্টে এ করছাড় চালু করে পর্তুগাল সরকার। প্রধান শর্তগুলো হলো—
- বাড়ি কেনার সময় ক্রেতার বয়স ৩৫ বছর বা তার কম হতে হবে।
- বাড়ি কেনার আগের তিন বছরে তাঁর নিজের নামে কোনো আবাসিক শহুরে সম্পত্তি বা এর অংশের মালিকানা থাকা যাবে না।
- কেনা বাড়িটি একমাত্র প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করতে হবে।
- বাড়ি কেনার বছরে পর্তুগালের ব্যক্তিগত আয়কর ব্যবস্থায় (আইআরএস) তাঁকে অন্য কারও নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচিত হওয়া যাবে না।
সরকারের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সীমা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৭২ ইউরো মূল্যের বাড়ি কেনায় আইএমটি ও স্ট্যাম্প ডিউটি—দুই করেই পুরোপুরি ছাড় পাওয়া যায়।
বাড়ির দাম এ সীমার বেশি হলেও ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৪৫৩ ইউরো পর্যন্ত কেনাকাটায় আংশিক করছাড়ের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ করছাড়ের সীমার অতিরিক্ত অংশের ওপর কর দিতে হবে। তবে বাড়ির দাম ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৪৫৩ ইউরোর বেশি হলে এ তরুণদের করছাড় প্রযোজ্য হবে না।
ফিন্যান্স পোর্টাল অথবা কর কার্যালয়ের মাধ্যমে এ সুবিধার জন্য আবেদন করা যায়। বাড়ির দলিলে স্বাক্ষর করার আগে ক্রেতাদের নিজেদের যোগ্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইএমটি ঘোষণা সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে থাকা আর বিদেশেই থেকে যাওয়া এক নয়
বাড়ি কেনার সময় বিদেশে বসবাস করা এবং বাড়ি কেনার পরও বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস চালিয়ে যাওয়া—এ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। স্পেন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য কোনো দেশে কর-নিবাসী পর্তুগিজ তরুণেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন না। তবে করছাড়টি স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রথম বাড়ি কেনায় সহায়তা করতে দেওয়া হয়েছে; মাঝেমধ্যে বেড়াতে যাওয়া বা দ্বিতীয় বাড়ি কেনার জন্য নয়।
এসআইসি ভেরিফিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিদেশে বসবাসকারী তরুণ পর্তুগিজ নাগরিকেরাও এ সুবিধা পেতে পারেন, তবে তাঁদের সব আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে। সীমান্ত পেরিয়ে বসবাসের কারণে যাঁদের কর-সংক্রান্ত পরিস্থিতি জটিল, তাঁদের বাড়ি কেনার আগে কর ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
