শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ২১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে বর্জ্য ফেলার জায়গা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এই বড় সংকট মোকাবিলায় ‘তেরা+স্ট্রেটেজি’ নামে একটি বিশেষ মহাপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ। একে দেশটির অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন সরকারের মন্ত্রীরা।

পর্তুগালের মন্ত্রী লেইতাও আমারো এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকটকে একটি ‘লুকানো সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ঘোষণা করেন, দেশের অন্যতম বড় এই সমস্যা সমাধানে চলতি দশকে ‘অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগ’ করতে যাচ্ছে সরকার।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, পর্তুগালের ৩২টি ল্যান্ডফিলের (বর্জ্য ফেলার জায়গা) মধ্যে ১৩টিই তাদের ধারণক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে দেশের উৎপাদিত বর্জ্যের ৫০ শতাংশেরও বেশি ফেলা হচ্ছে এসব ল্যান্ডফিলে, যদিও ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হার মাত্র ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

লেইতাও আমারো বলেন, এই পরিস্থিতিতে ‘বর্জ্য ফেলার জন্য বিকল্প কোনো স্থান বা সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’ বর্জ্য উৎপাদন হ্রাস করা থেকে শুরু করে তা প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি—সবই এই কৌশলের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি সমস্যা। তবে এটি আমাদের বাড়ির ঠিক দরজায় এসে না ঠেকায়, এ নিয়ে আলোচনা খুবই কম হয়েছে। আমাদের বর্জ্য ফেলার জায়গা ও বিকল্প অপশনগুলো ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে।’ তিনি এখনই এবং অত্যন্ত জোরালোভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে বলে সতর্ক করেন।

বর্জ্য সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য ‘তেরা+ কৌশল’-এর আওতায় এই দশকের অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর অধীনে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ইউরো সরকারি বিনিয়োগ এবং সামগ্রিকভাবে মোট ২.৩ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে মন্ত্রিপরিষদের আজকের বৈঠকে এই প্রকল্পের বিশাল বিনিয়োগের গুরুত্ব ও তাগিদ নিয়ে আলোচনা হলেও, এই কৌশলের বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘এই কৌশলটির মূল লক্ষ্য হলো বর্জ্য উৎপাদন প্রতিরোধ করা, বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য (রিসাইক্লিং) প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা, বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ ও নতুন পরিকাঠামো নির্মাণ এবং ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পাঠানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা।’ তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version