বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ২৯ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী,  যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে পর্তুগিজ নাগরিকদের বিরুদ্ধে নির্বাসন বা ডিপোর্টেশন জারি করা হয়েছে । এতে শুধু ব্যক্তিগত নয়, পারিবারিক ও সামাজিক স্তরে বড় প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতি, বৈধতা ও নিরাপত্তার সমন্বয় বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

প্রেক্ষাপট

পর্তুগিজ অভিবাসীরা শতবর্ষ ধরে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে শিক্ষাজীবন, কাজ ও ব্যবসার জন্য ছড়িয়ে পড়েছেন। তবে নিয়মিত ভিসা ও অবস্থান অনুমোদন না থাকা ও কিছু ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন তাদের নির্বাসনের মুখোমুখি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে ২০১০-২০২৫ সালের মধ্যে পর্তুগিজদের উপর নির্বাসনের হার ক্রমবর্ধমান। মূলত এই প্রক্রিয়া ভিসা মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়া, অবৈধ কাজ, কিংবা কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিষয়ক কারণেই ঘটছে।

দেশভেদে পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্র

প্রধান কারণ হচ্ছে ভিসা মেয়াদ অতিক্রান্ত বা শ্রম/শিক্ষা অনুমোদন লঙ্ঘন। এছাড়া ২০২৫ সালে পর্তুগিজদের ডিপোর্টেশন আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং স্থানীয় পর্তুগিজ কমিউনিটি উদ্বিগ্ন, কারণ অনেক পরিবার হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

কানাডা

নিয়মিত ভিসা ও কাজের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে দেশটি, যা ২০২৫ সালে পূর্বের বছরের তুলনায় ৩৫–৩০শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে্। এছাড়া ফ্রনটেক্স এবং কানাডার অভিবাসন সংস্থার সমন্বয়ে কার্যক্রম দ্রুত ও সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ফ্রান্স

অস্থায়ী ভিসাধারী বা শরণার্থী যারা বৈধভাবে নথিভুক্ত হয়নি তাদের উপর বেশি নজরদারি ও প্রশাসনিক ত্রুটি, তথ্যের অভাব বা নথি না দেওয়ার কারণে কিছু প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক নির্বাসনের দিকে গেছে।

যুক্তরাজ্য

ব্রেক্সিটপরবর্তী কঠোর অভিবাসন নীতি কার্যকর, ভিসা নিয়ম, পাসপোর্ট বৈধতা ও কাজের অনুমোদনের নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের দ্রুত নির্বাসনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এছাড়া সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় শতাধিক পর্তুগিজ নাগরিককে তৎক্ষণাৎ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

পরিসংখ্যান

২০২৫ সালে পর্তুগিজ নাগরিকদের ডিপোর্টেশন/নির্বাসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য মিলিয়ে মোট ৭৫০-৮০০ জন নাগরিক।স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে আরও সাত শতাধিক নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।বাধ্যতামূলক নির্বাসনের কার্যক্রমে, ১৬১ জন বিচারিক নির্বাসন, ৬৯ জন জোরপূর্বক প্রত্যাহার, ২১ জন সীমান্তে পরিচালনা এবং ২১ অগ্রহণযোগ্য মামলায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যানই নির্দেশ করছে, পর্তুগিজ অভিবাসীরা বৈধভাবে দেশে ফেরার সুযোগ নিলে সমস্যা কমানো সম্ভব, অন্যথায় বাধ্যতামূলক নির্বাসন বাড়বে।

স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন ও মানবিক বিকল্প

স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন হলো এমন নাগরিকদের জন্য সুযোগ, যারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা শেনজেন অঞ্চল নয় এমন দেশ থেকে পর্তুগাল আসে ও নিজ অর্থ বা উপায় না থাকলেও দেশে নিরাপদে ফেরার ইচ্ছা রাখে। এতে নাগরিকদের অর্থ, পরামর্শ ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন বাধ্যতামূলক নির্বাসনের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবিক।

প্রশাসনিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়

ফ্রনটেক্স, ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা, পুনঃগ্রহণ ও নির্বাসনে পর্তুগালের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। পর্তুগাল সরকার ও অভিবাসন সংস্থা  নিশ্চিত করছে যে, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আইন মেনে চলা হচ্ছে। শেনজেন জোনের অন্যান্য দেশ থেকে পুনঃগ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে ৩৪শতাংশ বাতিল করা হয়েছে যাতে দেশীয় আইন ও মানবাধিকার রক্ষা হয়

সামাজিক ও মানবিক প্রভাব

এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। বর্তমানে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া কমিউনিটি লিডাররাও স্থানীয় সরকার ও পর্তুগিজ দূতাবাসকে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

ইউরোপীয় অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ডঃ মারিয়ো সান্তোস বলেন, নির্বাসন প্রক্রিয়া কঠোর হলেও, স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় এটিকে মানবিকভাবে পরিচালনা করার সুযোগ দেয়। অভিবাসন আইন ও নীতি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্তুগিজ নাগরিকদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া ডিপোর্টেশন নির্দেশ শুধু আইনগত নয়, সামাজিক ও মানবিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছাড়া এই প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি বাড়তে পারে।

২০২৫ সালের ঘটনা নির্দেশ করছে, ভিসা, প্রশাসনিক নথি এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলা প্রতিটি অভিবাসীর জন্য অপরিহার্য।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version