শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটা পিএলসি ইউরোপে ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো পর্তুগালের বাজারে ওষুধ রপ্তানি শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে ওষুধের প্রথম চালান পাঠিয়েছে কোম্পানিটি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) দেওয়া এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিটি।
রেনাটা জানিয়েছে, প্রথম চালানে অ্যামান্টাডিন ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুল, ফ্লুড্রোকর্টিসোন ০.১ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট এবং ক্যাবারগোলিন ০.৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট পর্তুগালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে অ্যামান্টাডিন তৈরি হয়েছে রাজেন্দ্রপুর জেনারেল উৎপাদন কেন্দ্রে। অন্য দুটি ওষুধ উৎপাদন করা হয়েছে মিরপুর পোটেন্ট উৎপাদন কেন্দ্রে।
রেনাটার ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় উৎপাদন কেন্দ্রই ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (ইইউ-জিএমপি) অনুমোদিত। ফলে পর্তুগালের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে ইউরোপীয় বাজারে কোম্পানিটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে রেনাটা।
কোম্পানিটি বলছে, পর্তুগালের বাজারে প্রবেশ ইউরোপজুড়ে তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে ইউরোপের ওষুধের বাজারে রেনাটার উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।
এর আগে গত ৩ জুলাই রেনাটা জানিয়েছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ছয়টি দেশে লেভোথাইরক্সিন সোডিয়াম ট্যাবলেট রপ্তানি ও বাজারজাতের অনুমোদন পেয়েছে তারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিকেন্দ্রীকৃত অনুমোদন প্রক্রিয়ার আওতায় আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও মাল্টায় ওষুধটির বিপণনের অনুমতি পেয়েছে কোম্পানিটি।
থাইরয়েড রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত লেভোথাইরক্সিন সোডিয়াম ট্যাবলেট এসব বাজারে সরবরাহের মাধ্যমে ইউরোপে নিরাপদ, মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় রেনাটা। অনুমোদিত ওষুধটি কোম্পানির ইইউ-জিএমপি অনুমোদিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন উৎপাদন কেন্দ্রে তৈরি হবে।
১৯৭৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রেনাটার পরিশোধিত মূলধন ১১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২১ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বাকি ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।
