বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় উন্নত জীবন ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের দেশগুলো বরাবরই শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করলেও বৈধ পথে অভিবাসীদের স্বাগত জানাচ্ছে পর্তুগাল সরকার। বিশেষ করে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে দেশটির উদারনীতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
পর্তুগাল সরকার বর্তমানে অনিয়মিত অভিবাসন সীমিত করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। এর মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসা অন্যতম। সরকারি তথ্যমতে, বর্তমানে স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সুযোগ আরও বাড়বে।
পর্তুগালে উচ্চশিক্ষাকে প্রধানত চারটি স্তরে ভাগ করা যায়:
১.ডিপ্লোমা কোর্স: আইটিসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে ১২ থেকে ১৮ মাসের ডিপ্লোমা কোর্সে সরাসরি ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এর বাৎসরিক টিউশন ফি গড়ে ৩ হাজার ৫০০ ইউরো।
২.ব্যাচেলর কোর্স: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ব্যাচেলরে ভর্তির সুযোগ কম। প্রথমে ৬ মাস থেকে ১ বছরের প্রাক-ব্যাচেলর কোর্স করতে হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি ৫-৬ হাজার এবং বেসরকারিতে ৮-১০ হাজার ইউরো। এক্ষেত্রে IELTS বাধ্যতামূলক।
৩.মাস্টার্স ও পোস্ট গ্রাজুয়েশন: IELTS থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়, তবে ‘মিডিয়াম অফ ইনস্ট্রাকশন’ (MOI) সার্টিফিকেট দিয়েও আবেদন সম্ভব। টিউশন ফি পাবলিক ও বেসরকারি ভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
৪.পিএইচডি ও গবেষণা: গবেষকদের জন্য বাৎসরিক ফি ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ ইউরো। যোগ্যতা অনুযায়ী প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ করে এখানে ভর্তির সুযোগ নেওয়া যায়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস , এফসিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া পর্তুগালে বর্তমানে ন্যূনতম বেতন ৯২০ ইউরো। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি ডেলিভারি সার্ভিস, কল সেন্টার ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে পার্ট-টাইম বা ফুল-টাইম কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় পর্তুগালে নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ। স্টুডেন্টসহ যেকোনো বৈধ ক্যাটাগরিতে ৫ বছর বসবাস করলেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বাংলাদেশে পর্তুগালের কোনো দূতাবাস না থাকা। ভিসা আবেদনের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যেতে হয়। তবে, যথাযথ নথিপত্র এবং ভারতের ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে ভিসা পাওয়া এখন অনেকটাই সহজ হবে।
বসবাসের খরচ ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী (মাসিক ৫০০-৬০০ ইউরো)। এখানকার আবহাওয়া বাংলাদেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্থানীয়দের আচরণ অত্যন্ত বন্ধুসুলভ।বর্তমানে এপ্রিল-মে সেশনের আবেদন প্রক্রিয়া চলছে। যারা কম খরচে বিশ্বমানের ডিগ্রি অর্জন করতে এবং দ্রুত স্থায়ী হতে চান, তাদের জন্য ২০২৬ সালে পর্তুগাল হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।
